প্রচ্ছদ সারাবাংলা কুড়িগ্রামে ভিজিএফ চালের তালিকায় ২ হাজার স্বচ্ছল, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী ও নেতার নাম

কুড়িগ্রামে ভিজিএফ চালের তালিকায় ২ হাজার স্বচ্ছল, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী ও নেতার নাম

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 2 মিনিট পড়ুন
কুড়িগ্রামে ভিজিএফ চালের তালিকায় ২ হাজার স্বচ্ছল, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী ও নেতার নাম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে ঈদুল আযহা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরিবদের জন্য নির্ধারিত এই চালের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার স্বচ্ছল ব্যক্তি, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাসহ অনেকেই।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বলদিয়া ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে ৫ হাজার ৭৪৫ জন দরিদ্রের জন্য ৫৭.৪৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। প্রতিজনকে দেওয়া হয় ১০ কেজি করে চাল। তবে বিতরণের তালিকায় প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা একটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ভিজিএফ তালিকার নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নম্বর ১১৩৮: স্বপন কুমার সরকার, প্রধান শিক্ষক; নম্বর ২৫৭: আশরাফুজ্জামান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক; নম্বর ২৫৮: আরমান আলী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক; নম্বর ২৯২১: রফিকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী; নম্বর ২৯৩৯: লুৎফর রহমান, রাজনৈতিক কর্মী। তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তিরা গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা কখনো চাল উত্তোলন করেননি এবং কীভাবে তাঁদের নাম তালিকায় এসেছে, তা নিজেরাও জানেন না। তাঁরা সামাজিকভাবে বিব্রত হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা আগেই এসব ভুয়া নামের বিপরীতে চালের স্লিপ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। তবে বিতরণের সময় স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ব্যবসায়ীরা চাল উত্তোলন করতে পারেননি। ফলে প্রায় ১৮.৫ মেট্রিক টন চাল অব্যবহৃত অবস্থায় গুদামে রয়ে যায়, যেটি বর্তমানে সিলগালা করে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক স্বীকার করেছেন যে, পুরনো তালিকা ব্যবহার করায় কিছু স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম ভুলবশত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে তিনি চালের স্লিপ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম ফেরদৌস জানান, তালিকায় অনিয়ম ধরা পড়ায় চাল বিতরণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, নির্ভুল তালিকা তৈরি করে পরবর্তীতে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করা হবে।

এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হতদরিদ্র মানুষরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারের সহায়তা প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত তারা বঞ্চিত হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00