নওগাঁয় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি, কিশোররা চুরি, ছিনতাই এবং মাদক সেবনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। জেলার অন্তত ২০টি স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ছোট যমুনা নদীর তীর, ডিগ্রি কলেজ চত্বর, কেডির মোড় বাইপাস সড়ক এবং পার্ক রোডে বখাটে কিশোরদের উপস্থিতি বেড়েছে। দলবদ্ধ কিশোরদের হাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, এবং নারীদের প্রতি নিগ্রহের ঘটনাও ঘটছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, শহরে চলার পথে প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে হচ্ছে।
আত্রাই উপজেলায় সম্প্রতি মাদক কারবার নিয়ে কিশোরদের মধ্যে সংঘাতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকদের মতে, গত কয়েক মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনেক কিশোর ও তরুণ বাসা থেকে বের হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজিরা না দিয়ে অন্য কাজে সময় ব্যয় করছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, “কলেজে অনেক শিক্ষার্থী এখন আসছে না। তারা বাইরে বেশি সময় ব্যয় করছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের সাথে আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করছি কিন্তু খুব একটা ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।” নওগাঁ কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, “স্কুলের বাইরে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কাজে শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ায় পড়ার প্রতি মনোযোগ কমে গেছে।”
মানবাধিকার কর্মী নাইস পারভিন বলেছেন, “আন্দোলনের পরবর্তী কিছু কিশোরদের মধ্যে একটা হিরোইজম তৈরি হয়েছে। তারা নিজেদের একটি গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্নভাবে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।” জেলা পুলিশের দাবি, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা শহরসহ তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “গত দুই মাসে কিছুটা কিশোর অপরাধের কর্মকাণ্ড বেড়েছে। তবে আমরা কিশোরদের অপরাধ যাচাই করে তাদের মোটিভেশন কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”
এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০টি পয়েন্টকে কিশোর অপরাধের স্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার এবং স্কুল-কলেজে কিশোরদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনায় গত তিন মাসে শতাধিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।