ময়মনসিংহে একটি প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে সৌদি প্রবাসী শওকত হোসেনের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা, নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পুলিশ এই ঘটনায় একজনকে আটক করেছে।
শওকত হোসেন, যিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা, আট বছর সৌদি আরবে থাকার পর এক মাস আগে দেশে ফেরেন। তিনি দেশে ফেরার পর ১৪ হাজার সৌদি রিয়াল নিয়ে আসেন, যা তিনি বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে বাড়ির নির্মাণসামগ্রী কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এক নারীর ফাঁদে পড়ে তিনি সবকিছু হারান।
শওকতের অভিযোগ অনুযায়ী, রুমা আক্তার নামের ওই নারী, যিনি শহরের পাটগুদাম আটআনি পুকুরপাড় এলাকার রকি মিয়ার স্ত্রী, ফোনে পরিচয় হওয়ার পর শওকতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। শনিবার বিকেলে শওকত তার চাচাতো ভাই রিয়াজকে সঙ্গে নিয়ে শহরে রিয়াল ভাঙাতে যান এবং রুমার আমন্ত্রণে তার বাসায় যান।
বাসায় ঢুকতেই তাদেরকে নিচতলার একটি কক্ষে বসানো হয়। সেখানে আম ও বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করার পর বলা হয় যে আরও নাস্তা আসছে। এরপরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এক যুবক এসে তাদেরকে গালাগাল করতে শুরু করে। সে জানায় যে তারা খারাপ কাজে এসেছেন।
এরপর আরও একজন যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখায় এবং মারধর করে। এক পর্যায়ে রুমা এসে বলে, ‘ওরা যা চায় দিয়ে দেন’। এরপর তাদের পকেট থেকে মোবাইল, ১৪ হাজার রিয়াল এবং ১১ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে বিকাশে ২০ হাজার টাকা আনিয়ে নেয় এবং ইয়াবা সামনে রেখে তাদের ছবি তোলে।
ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রুমা আক্তারের বাসায় গিয়ে খলিলুর রহমান নামের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে। তবে রুমা ও তার স্বামী রকি মিয়া পালিয়ে যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানান, ‘চক্রটি বিদেশফেরত ও ধনাঢ্য লোকদের টার্গেট করে। তারা ফোন নম্বর সংগ্রহ করে সম্পর্ক তৈরি করে এবং পরে বাসায় ডেকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।’ গ্রেফতার খলিলুরকে রিমান্ডে চাওয়া হয়েছে এবং বাকি দুজনকে ধরতে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, রকি মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকের মামলা রয়েছে এবং রুমা আক্তারও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ২০২৪ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে দুবার গ্রেফতার হয়েছিলেন।