আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে চিনির দাম কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (২ জুন) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিশোধিত চিনির আমদানিতে শুল্ক টনপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে চিনির দাম কমার আশা করা হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারের বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের বাজেটের তুলনায় ভিন্ন।
অর্থ উপদেষ্টা এবারের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা দেশের ৫৪তম এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রথম বাজেট। এটি চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের (৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা) তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার হ্রাস পাওয়ার ঘটনা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬২%। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংক ঋণ এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করবে। এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এবং অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে।
বিগত বছরে সাধারণত বাজেট জুনের প্রথম দিকে যেকোনো বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করা হতো। তবে পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে, তাই এবার বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে।
বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই সংবাদ সম্মেলন ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে।
এবারের বাজেট উপস্থাপনে সংসদ না থাকায় কোনো সংসদীয় আলোচনা বা বিতর্ক হবে না। তবে ঘোষণার পর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর জনমত নেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত চাইবে, এবং সেই মতামতের ভিত্তিতে বাজেটের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। চূড়ান্তকরণের পর যেকোনো একদিন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাজেট অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বৈঠকে অনুমোদন পাওয়ার পর অধ্যাদেশ জারি করে বাজেটটি কার্যকর করবেন রাষ্ট্রপতি, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।