ইরানি ভূখণ্ডের ওপর আবারও কোনো হামলা হলে ইসরাইলি ভূখণ্ড নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) পাকিস্তান সফরের দ্বিতীয় দিনে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
ইব্রাহিম রায়িসি বলেন, যদি ইসরাইল আবারও ইরানের ওপর হামলা করে তা হলে ইসরাইল নামে দেশ আর অবশিষ্ট থাকবে না।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যদি ইসরাইল আরেকবার ভুল করে এবং পবিত্র ইরানের সার্বভৌমতাকে লঙ্ঘন করে তা হলে পরিস্থিতি অতি ভয়াবহ হবে।
গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালায় ইসরাইল। এর জেরে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১৩ এপ্রিল রাতে ইসরাইলের ভূখণ্ডে তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
ইরানের নজিরবিহীন হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইরানি ভূখণ্ডে ছোট হামলা চালায় ইহুদিবাদী ইসরাইল। দেশটির ইস্ফাহানে পরমাণু স্থাপনার রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। তবে উত্তেজনা থামিয়ে দিতে ইরান বিষয়টি চেপে যায়। এ ছাড়া ইসরাইলও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পরবর্তীতে ইসরাইলের একটি সূত্র জানায়, তারা ইরানে আরও বড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে এমন ভয় থেকে সিদ্ধান্ত বদলায় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি হওয়ায় বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে বলে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির তিন দিনের সফরকে কেন্দ্র করে এমন সতর্কবার্তা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
বিবৃতিতে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছি, ইরানের সঙ্গে যদি কোন দেশ ব্যবসায়িক চুক্তি করে তাহলে তাদের ওপর ওয়াশিংটনের বড় ধরণের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি আছে।’
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করার সময় ওই মুখপাত্র বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের বৃহত্তম রফতানি বাজার এবং বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশের মধ্যে একটি।