সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া-এর কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট নেওয়ার সময় একাধিক ইসরায়েলি নাগরিককে আটক করার ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় নীতিমালার কারণে দেশটিতে ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে অন্তত ৮ জন ইসরায়েলি নাগরিককে ট্রানজিট নেওয়ার সময় আটক করা হয়েছে। তারা মূলত এশিয়ার অন্যান্য দেশে যাওয়ার পথে মালয়েশিয়াকে সংযোগ রুট হিসেবে ব্যবহার করছিলেন।
সর্বশেষ বুধবার (২৫ মার্চ) ফিলিপাইন যাওয়ার পথে ৪ জন ইসরায়েলিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন নারী ছিলেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে তারা জানান, থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া হয়ে ফিলিপাইন যাওয়ার রুটটি তারা একটি এআই চ্যাটবটের পরামর্শ অনুযায়ী বেছে নিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল এই রুট নিরাপদ।
আরেক ঘটনায় কম্বোডিয়া থেকে একই ধরনের রুটে ভ্রমণের সময় আরও ২ জন ইসরায়েলি নাগরিককে আটক করা হয়। পরে তাদের দুই দিন আটক রেখে আবার কম্বোডিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটি ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদের জন্য দেশটিতে প্রবেশ বা ট্রানজিট নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইলিয়াহু ভেরড হাজান সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, জীবন ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এআই টুলের পরামর্শের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়া ভ্রমণ বা ট্রানজিট এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের ভিসা ও প্রবেশ নীতিমালা সম্পর্কে সঠিক ও সরকারি উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলের ক্ষেত্রে।