ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী বিটের হালচাটি, মালিটিলা, গজারীচালা, মাগুনঝুড়া, দরবেশতলা ও ৫ নং এলাকা থেকে প্রতিবছর রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বালু পাচার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একটি সংগঠিত চক্র মাহিন্দ্র গাড়ির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে বালু পাচার করছে। এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করছে। যদিও বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ দায়িত্ব পালন করছেন, তবে অভিযোগ উঠেছে তিনি বালু পাচারকারী চক্রের সাথে জড়িত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল রাতের আধারে বালু পাচার প্রতিরোধের জন্য অভিযানে নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা যখন কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন, তখন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে চাপ ও হুমকি আসছে।
স্থানীয়দের নিন্দা, যদি এইভাবে বালু পাচার চলতে থাকে তবে পরিবেশ ও মানবজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে শুধু পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস হবে না, বরং রাষ্ট্রের কোষাগারও কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।
শিক্ষানবিশ ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা, তহিদুল ইসলাম জানালেন, “আমি এই বিটে যোগদানের পর সীমিত সংখ্যক কর্মী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে একটি মাহিন্দ্র জব্দ করে মামলা করেছি। মালিটিলা এলাকায় বালুভর্তি গাড়ি আটকানোর সময় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা আমাকে অবরোধের চেষ্টা করেছে। তবুও আমি প্রতিদিন পাচারকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি। ফলে, তারা আমাকে লক্ষ্য করে মিথ্যা অভিযোগ ও হুমকি দিচ্ছে।”
রাংটিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম বলেছেন, “গজনী এলাকায় বালু পাচারের সত্যতা প্রতিনিয়ত আমরা পাচ্ছি। এ জন্য আমি নিজে রাত জেগে মাঠে থেকে অভিযান চালাচ্ছি। বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খানের বিরুদ্ধে একাধিক মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পরও বালু পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না কারণ পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কঠোর আইনী পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় রক্ষা করা সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল মন্তব্য করেন, “গত কয়েক মাসে আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম, অনেক গাড়ি আটক করেছি এবং পাচারকারীদের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছি। ভবিষ্যতে আরো কঠোর措施 নেব। পাহাড়ের ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারী বালুখেকোদের কোনো ছাড় নেই। এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা লড়াই চালিয়ে যাবে।