চতুর্থ দিন শেষে জয়ের ঘ্রান ছিল সিলেটের বাতাস। সিলেট টেস্টে আজ পঞ্চম দিনে মাত্র ৩ উইকেটে দরকারছিল বাংলাদেশর। তাইজুল ম্যাজিকে যা পূর্ণ হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১৭তম টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ৩ হার ও ৩ ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে এই প্রথম ১৫০ রানে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। এর আগে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে নাজমুল হোসেনের দল। গতকাল জয়ের জন্য ৩৩২ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষ করে ৭ উইকেটে ১১৩ রানে। ড্যারিল মিচেল ইশ সোধির সঙ্গে উইকেটে নিউজিল্যান্ডের ভরসা। নিউজিল্যান্ডের লড়াইয়ের শেষ ভরসা ড্যারিল মিচেল ফিফটি তুলেনেন। আগের দিন ৪৪ রানে অপরাজিত থাকা মিচেল দিনের প্রথম ওভারে তাইজুল ইসলামকে চার মেরে গতির চাকা সচল করেন। দিনের প্রথম ওভার থেকেই আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংয়ে বোলিং করেন তাইজুল। শর্ট লেগ থেকে দুটি স্লিপ। সকাল থেকেই উইকেট তুলে নিতে বেশ আগ্রাসী ছিল বাংলাদেশ। নাহ, ধৈর্যের খেলায় ড্যারিল মিচেলের হার! দিনের খেলার দশম ওভারে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ নেন মিচেল। নাঈম হাসানের করা বলটা মারতে চেয়েছিলেন । ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে বলের গতি বুঝে দারুণ ক্যাচ নেন তাইজুল। ১২০ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন মিচেল। এরপর আশার মিছিলে যোগ দেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।
তাইজুল ম্যাজিক
আর তাতে দারুণ অবদান রাখেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। নিউজিল্যান্ডের দুই ইনিংসে মোট ১০ উইকেট নেন তিনি। সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজের পর তাইজুল বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেন। ২০১৮ সালে এই সিলেটেই টেস্টে প্রথমবার ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল! সিলেট টেস্ট জয়ে ব্যাটসম্যানদের কথাও বলতে হবে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে নেতৃত্ব দেন তিন ব্যাটসম্যান- অধিনায়ক নাজমুল হোসেন (১০৫), মুশফিকুর রহিম (৬৭) এবং মেহেদি হাসান মিরাজ (৫০*)। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ১০৯ রানে ৪ উইকেট নেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৫ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। সিলেট টেস্টের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে তাইজুল ইসলামের স্পিনের কোনো জবাব ছিল না নিউজিল্যান্ডের কাছে। বলটি পরিমাপিত লাইন-দৈর্ঘ্যে আঁকা হয়েছে। প্রতিটা ডেলিভারির আঘাতেই উইকেট তুলেনেন সিলেট টেস্টে ১৮৪ রান ও ১০ উইকেট নেওয়া তাইজুলকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার না দেওয়াটা অন্যায় হত । তবে বিজ্ঞ ম্যাচ বিচারকদের ভুল ছিল না। ম্যাচের সেরা হন তাইজু। ম্যাচ সেরার পুরস্কার তুলে নিয়ে তাইজুল বলেন, 'দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি খুশি। ১০ উইকেট পাওয়া অনুপ্রেরণা বাড়িয়েছে। আত্মবিশ্বাসের সাথে নেওয়া জয় দলের মানসিকতা ঠিক রাখবে। আমি আমার সতীর্থদের সমর্থনও পেয়েছি।