রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সম্প্রতি এক ছাত্রীসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছেন। এই ঘটনা ঘটে রোববার (১১ মে) সন্ধ্যায়, যখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে হাতেনাতে ধরার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র সদস্য। তিনি জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অপরদিকে, ওই ছাত্রী ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের (এমবিএ) শিক্ষার্থী এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ওই ছাত্রীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের ৩০৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। কক্ষে প্রবেশের পর তিনি বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ করে দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কক্ষের দরজায় কড়া নাড়েন এবং কিছুক্ষণ পর শিক্ষক দরজা খুলে দেন। শিক্ষার্থীরা কক্ষে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান।
ভিডিও ধারণের সময়, মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ওই ছাত্রীর মাথায় একটি রুমাল পরিয়ে দেন এবং শিক্ষার্থীরা জানতে চান, কেন তিনি ছাত্রীর মাথায় রুমাল পরিয়ে দিচ্ছেন। উত্তরে শিক্ষক বলেন, ‘সে মেয়ে মানুষ, তাই।’ এরপর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও ছাত্রীর মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। পরে বিষয়টি তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ফাইন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শিবলী সাদিক জানান, এর আগে মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। তখন বিভাগের সভাপতি আরেকজন ছিলেন এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে রবিবারের ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর কক্ষে ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, তিনি এই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন এবং খোঁজ নিচ্ছেন। প্রথমে জানতে হবে সেখানে আসলে কী ঘটেছে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।