জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নারিকেলী গ্রামে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের দেয়ালে সংঘর্ষ ঘটেছে। শুক্রবার সকাল বেলা, একই গ্রামের মৃত লোকমান আলীর পুত্র মোঃ রমজান (৬০), বাছেদ (২৫), আব্দুস ছাত্তার (৫০), রিপন (৪০), বাকের (৩০) সহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সাংবাদিক এম.এ রফিকের বাসভবনে আক্রমণ করে। এই হামলার সময় তারা সাংবাদিকের বাড়ির বাউন্ডারী ও ঘরগুলোর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। আহত হন সাংবাদিক রফিক ও তার স্ত্রী লাকী আক্তার। জানা যায়, সাংবাদিক এম.এ রফিক ২০০৬ সালে একই গ্রামের মোঃ আব্দুস ছাত্তার থেকে নারিকেলী মৌজার একটি জমি কেনার জন্য অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ উক্ত জমিতে বসবাস করে আসছেন। জমির মালিক আব্দুস ছাত্তার জমি রেজিস্ট্রি করতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করে। এ নিয়ে গ্রামে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সম্মতির মাধ্যমে রফিকের দখল প্রমাণিত হয় এবং জমি রেজিস্ট্রির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে, ছাত্তার ঐ শালিসের ফলাফল অমান্য করে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আপোষর কার্যক্রমের জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠায়, যেখানে মামলার ভিত্তিতে রফিকের পক্ষে রায় দেওয়া হয়। কিন্তু অবশেষে মামলার বাদী আব্দুস ছাত্তার পুনরায় মামলাটি পরিচালনা করেন এবং আদালত তা খারিজ করে দেন। এরপর থেকে, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহায়তায় আব্দুস ছাত্তার জমিটি বিক্রি করার চেষ্টা করছে। তৃতীয় পক্ষ রমজান আলীগংসহ ছাত্তার সাংবাদিক এম.এ রফিকের পরিবারে আক্রমণ করে। এ ঘটনার পর সাংবাদিক তরফ থেকে জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ ফয়সাল আতিক বলেন, সাংবাদিক রফিকের অভিযোগ নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করবে। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকী জানান, সাংবাদিকের উপর হামলার বিষয়টি বেদনাদায়ক এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম.এ রফিক হামলাকারীদের প্রভাবশালী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ আশা করছেন।