যেখানে বিশ্ববাজারে প্রতিনিয়ত জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে উল্টো চিত্র দেখা গেলো বাংলাদেশে। হঠাৎ করেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) গতকাল ঘোষণা দিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই দাম গতকাল রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০২ থেকে বাড়িয়ে ১০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১১৮ থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা ও অকটেনের দাম ১২২ থেকে বাড়িয়ে ১২৪ টাকা করা হয়েছে। আর কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৪ থেকে বাড়িয়ে ১১৬ টাকা করা হয়েছে।। কেরোসিনের ক্ষেত্রেও একই হার বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১২২ টাকা লিটারপ্রতি। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৫ ডলারের নিচে রয়েছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া:
এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও আবারো বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একজন গণপরিবহন চালক বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনোভাবে খরচ বাড়ছে। এখন তেলের দাম বাড়লে ভাড়াও বাড়াতে হবে। এতে যাত্রীদের কষ্ট আরও বাড়বে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার হয়তো লোকসান ঠেকাতে দাম বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে, তবে এতে জনগণের ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাঁরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দাম নির্ধারণ করা হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতেন।
বিপিসি সূত্রে জানানো হয়, বর্তমানে সরকার তেলের ভর্তুকি কমিয়ে এনে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণে কাজ করছে। তাদের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি খুব সামান্য এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে মূল্য হ্রাস পাওয়ার সময়েও দেশের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের মাঝে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। এমন সময় ভোক্তারা সরকারের কাছে স্বচ্ছতা ও যুক্তিসঙ্গত মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। জনসাধারণ এখন অপেক্ষায়, কবে দেশের বাজারে বৈশ্বিক প্রভাব বাস্তবে প্রতিফলিত হবে।