প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৭, ২০২৬, ১১:২১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২, ২০২৩, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ভূমিকম্প কি ? ভূমিকম্প কেন হয় ? ভূমিকম্পের সময় করণীয়
ভূমিকম্প কি?
ভূমিকম্প হচ্ছে মাটির কম্পন। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা আরেকটির উপরে চলে যায় তখন ভূমিকম্প হয়। ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অংশের অবস্থান বা নড়াচড়ার আকস্মিক পরিবর্তনকে ভূমিকম্প বলে। যদি বাড়ির কিছু হঠাৎ দোলনা শুরু করে - যেমন, একটি দেয়াল ঘড়ি, ঝুলন্ত ছবি, বা বিছানা সহ অন্য কোন আসবাব - ভূমিকম্প হচ্ছে বোঝা উচিত। সহজ কথায়, ভূমিকম্প হল পৃথিবী কেঁপে উঠা।
সারা বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৬,০০০ ভূমিকম্প হয়। তাদের বেশিরভাগই সূক্ষ্ম, যা আমরা লক্ষ্য করি না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়—প্রধান, মাঝারি ও মৃদু। উৎসের গভীরতা অনুযায়ী, ভূমিকম্পকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়- অগভীর, মধ্যবর্তী এবং গভীর ভূমিকম্প। যদি ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল পৃথিবীর পৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে তবে এটিকে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার মধ্যবর্তী এবং ৩০০ কিলোমিটারের নিচে গভীর ভূমিকম্প হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।
ভূমিকম্প কেন হয়?
ভূগর্ভস্থ গ্যাস যখন পৃথিবীর পৃষ্ঠের ফাটলের মাধ্যমে বা আগ্নেয়গিরির ভেন্টের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়, তখন গ্যাসের স্থান খালি হয়ে যায় এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠের চাপ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মহাকাশের উপর চাপ সৃষ্টি করে। তখনই পৃথিবীর পৃষ্ঠে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। ভূমিকম্প সাধারণত তিনটি প্রধান কারণ দ্বারা সৃষ্ট হয় - পৃথিবীর পৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূমিধস।
ভূমিকম্পের স্থিতিশীলতা
ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। কিন্তু এটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্যাপক ধ্বংসের কারণ হতে পারে। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের মাত্রা মাপার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে রিখটার স্কেল বলে। রিখটার স্কেলে একক১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে ৫-এর বেশি মাত্রা মানে মারাত্মক বিপর্যয়ের হুমকি। ভূমিকম্পের মাত্রায় এক ডিগ্রি বৃদ্ধি ১০ থেকে ৩২ গুণ বাড়তে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা—৫ - ৫.৯৯মাঝারি, ৬-৬.৯৯ তীব্র, ৭-৭.৯৯ তীব্র এবং ৮টি অত্যন্ত তীব্র।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়
- ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না।
- ভূমিকম্পের সময় আপনি বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন এবং টেবিল, ডেস্ক বা অন্যান্য মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন।
- রান্নাঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসুন।
- বিম, কলাম এবং পিলারের চারপাশে আশ্রয় নিন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকার সময় মাথায় স্কুলব্যাগ নিয়ে শক্ত বেঞ্চ বা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।
- বাড়ির বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু দালান, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।
- আপনি যদি উঁচু বিল্ডিংয়ে থাকেন তবে জানালা বা দেয়ালের পাশে অবস্থান নেবেন না, শক্ত বিম, টেবিলের নিচে অবস্থান নিন।
- আপনি যদি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, মার্কেট এবং সিনেমা হলে বসে থাকেন তাহলে ভিড় না করে দুই হাতে মাথা ঢেকে বা দরজার সামনে ধাক্কা না দিয়ে বাইরে বেরোন।
- আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।
- বহুতল বিল্ডিং-এ অনেক মানুষ একসঙ্গে একই জায়গায় না থেকে আলাদাভাবে আশ্রয় নেওয়া উচিত।
- প্রাথমিক সতর্কতা হিসাবে আপনার মোবাইল ফোনে ফায়ার সার্ভিস এবং দরকারী মোবাইল নম্বর রাখুন। বিপদের সময় কাজে লাগবে।
- দ্রুত নিচে নামার জন্য ভবন থেকে লাফ দেবেন না।
- ভূমিকম্পের সময়, যদি সম্ভব হয়, একটি বালিশ বা অন্যান্য কঠিন বস্তু [পিচবোর্ড, নরম কাপড়ের রোল] মাথার উপর শক্তভাবে ধরে রাখুন।
- গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকুন।
- উঁচু ভবন থেকে দ্রুত নামার জন্য লিফট ব্যবহার করবেন না।
- ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে খোলা জায়গায় গাড়ি থামিয়ে গাড়িতেই থাকুন।
- একবার ভূমিকম্পের পর আরেকটি ছোট ভূমিকম্প হয় যাকে 'আফটারশক' বলা হয়। নিজেকে বিপদমুক্ত করার জন্য অন্তত এক ঘণ্টা সময় নিন।
- ভাঙ্গা দেয়ালের নিচে আটকা পড়লে বেশি নড়াচড়া করার চেষ্টা করবেন না। একটি কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে শ্বাসনালীতে ধুলাবালি প্রবেশ করতে না পারে।
- একবার কম্পন ঘটলে, আবার হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নিন।
- আপনি উপরের তলায় থাকলে, কম্পন বা কম্পন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে; তাড়াহুড়ো করে লাফ দেওয়া বা নামার জন্য লিফট ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
- কাঁপানো বা কাঁপানো বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে যান এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিন।
- গাড়িতে থাকলে পথচারী-সেতু, ফ্লাইওভার, গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে পার্ক করুন। কাঁপানো বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির ভিতরেই থাকুন।
- বাড়িতে ব্যাটারি চালিত রেডিও, টর্চলাইট, জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার কিট রাখুন।
- বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করুন।
- আপনি একজন ধর্মপরায়ণ মুসলিম হলে ভূমিকম্পের সময় বেশি বেশি দুই ইউনুস , দূরদ ও শাহাদা পড়ুন।
Copyright © 2026 আমার বাংলা সংবাদ. All rights reserved.