অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধে ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন,তাদের যুদ্ধ চালানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।গাজায় স্থল অভিযান শুরুর পর ব্যাপকহারে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যের প্রাণহানির প্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।মন্ত্রীসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু আরও বলেন, এটি হবে দীর্ঘ যুদ্ধ। ইসরায়েলি বাহিনী ‘শেষ পর্যন্ত’ পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিনই নিহত হচ্ছেন। শুধুমাত্র গেলো শুক্র ও শনিবার হামাসের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আধুনিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত ১৪ ইসরায়েলি সেনা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজায় ২৭ অক্টোবর স্থল আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ১৫৩ সৈন্য নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু এবং আহত হয় আরও অন্তত ৫৪ হাজার মানুষ।নেতানিয়াহুর উদ্ধৃতিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, গেলো শনিবার ছিল গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী দিনগুলোর মধ্যে একটি। তবে এরপরও গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া ‘কোনো বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।এদিকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডস জানিয়েছে, জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্পের আল-কাসাইব এলাকায় তাদের স্নাইপাররা দখলদার তিন ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করেছে। যার মধ্যে একজন মেজরও রয়েছেন।জাবালিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও বর্বরতা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। এরমধ্যেই এক মেজরসহ তিন সেনাসদস্যকে গুলি করার কথা জানাল হামাস। তবে এই সেনারা নিহত হয়েছেন কি না— সে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেনি হামাস।