দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বাড়লে পণ্যের মূল্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকার চেষ্টা করবে যেন সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম পড়ে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডি’র সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “যৌক্তিকভাবে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় করা হবে। যতটা কম ক্ষতি করে, কম ভাড়া বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করবে সরকার। তিন স্তরে এসি বাসের ভাড়াও সমন্বয় করা হবে।”
জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশে প্রকৃত ঘাটতির তুলনায় চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সরবরাহে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে যা সম্পর্কিত। তবে এই সীমিত ঘাটতির তুলনায় বাজারে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আগে যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল, এখন তা তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত আতঙ্কজনিত মজুত প্রবণতা এবং অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে তৈরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি ও অতিরিক্ত চাহিদা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।”
সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
গত ১৯ এপ্রিল প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় যাত্রী কল্যাণ সমিতি। অতীতে তেলের দাম কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে যে হারে বাস ভাড়া কমানো হয়েছে, সেই একই অনুপাতে এবার ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
আগের দিন (১৮ এপ্রিল) দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা, অকটেনের ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে ডিজেলের দাম ১১২ টাকা, কেরোসিনের ১১২ টাকা, অকটেনের ১২০ টাকা পেট্রোলের ১১৬ টাকা ছিল। এ দফায় প্রায় ৩ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে তেলের দাম। এরপর থেকে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করে আসছেন পরিবহন মালিকরা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যটির মূল্য বেড়েছে। এ কারণ দেখিয়ে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার।