ভারতের মেঘালয় ও আসামে চলমান ভারী বর্ষণের ফলে শেরপুরের চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত রাত ১০টায় নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৩৯ সেন্টিমিটার ওপরে, যা কিছুটা কমে এলেও ভোর থেকে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজানে অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে নির্মাণাধীন চাপাতলী সেতুর পাশের নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, ভোগাই নদীর পানি (নকুগাঁও পয়েন্ট) বিপৎসীমার ৩৭৯ সেন্টিমিটার নিচে, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে, ২০ মে পর্যন্ত জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে, যা জনজীবন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জেলায় ৯৪ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং শুরু হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেছেন, বৃষ্টি ও উজানের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত চার দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভোগাই নদীসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।