রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিশুর নাম রামিসা আক্তার (৮)। সে স্থানীয় 'পপুলার মডেল হাই স্কুল'-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এই বর্বরোচক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রতিবেশী রিকশা মেকানিক সোহেল রানা (৩৪) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জুতো দেখে লাশের সন্ধান
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রামিসা নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের একটি সাবলেট রুমের দরজার বাইরে রামিসার জুতো পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। সন্দেহ হলে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে রামিসার গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তীব্র যৌনলালসা থেকে শিশু রামিসাকে ঘরে ডেকে নেয় সোহেল রানা। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুম করারও পরিকল্পনা ছিল ঘাতকের।
স্ত্রীসহ ঘাতক গ্রেপ্তার
হত্যাকাণ্ডের পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে আটক করে। এই নৃশংসতায় সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় স্বপ্না ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে স্বামীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।
১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, ফাঁসির দাবি
পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল আসামি সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এই অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও সহপাঠীদের পরিবার ঘাতক সোহেল রানার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।