ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকা থেকে সালমা মোস্তারী নামের এক নারী তার দুই ছেলে ও চালককে নিয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কে ঘুরতে যান। কোর সাফারির জন্য নির্দিষ্ট মিনিবাসে ওঠার পর সিটে ময়লা-আবর্জনা দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করতে বলা হয় পার্কের এক কর্মচারীকে। এ নিয়ে পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী ফরহাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও তর্ক বাধে। একপর্যায়ে দর্শনার্থী নারীর ছেলের সঙ্গে পার্কের প্রহরীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সাফারি শেষ করে বাসটি পার্ক অফিসের নিচে আসলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্য: ভুক্তভোগী দর্শনার্থী সালমা মোস্তারীর অভিযোগ, বাস থেকে নামার পর পার্কের বেশ কিছু কর্মচারী দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর চড়াও হন। তার দুই কিশোর ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে পার্কের ভেতরের একটি অফিসে নিয়ে গিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় তাদের কয়েকটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি ভেঙে ফেলা হয়, নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি তাদের দীর্ঘক্ষণ অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
স্টাফ ও পার্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: অন্যদিকে পার্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, বাসের সিটে ময়লা থাকা নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে দর্শনার্থীর সন্তানেরা পার্কের এক কর্মচারীকে (মুমিন) মারধর করে আহত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তাদের পার্ক অফিসে ডাকা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে পার্কের দুজন কর্মচারীও আহত হয়েছেন। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পার্কের আউটসোর্সিং স্টাফ ফরহাদকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামলা ও আইনি পদক্ষেপ: ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী দর্শনার্থীর পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় পার্কের ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।