গত ০৭ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে আমার ফোন ও কিছু অর্থ ছিনতাই হয়েছে। ঘটনার পর আমরা মোহাম্মদপুর থানায় যোগাযোগ করে অভিযোগ দায়ের করি। একদিন পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমার সাথে দেখা করে যায়। কিছুটা বিরক্ত হলেও আমরা প্রশাসনের সাথে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছি।
মোহাম্মদপুরের ছিনতাইয়ের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বিভিন্ন সময় কিছু ফুটেজে আমরা দেখেছি। একই রকম ঘটনা আমার সাথে ঘটবে, সেটা ভাবনার অতীত ছিল। এরকম দিনের আলোয়, জনসম্মুখে বড় রামদা নিয়ে ছিনতাই করা যায় এবং সেটা দিনের পর দিন হয়ে আসছে—এটা ভাবতেই কষ্ট হয়।
আমি এই ঘটনা কেবল এজন্যই প্রচার করছি যে, আমি মনে করি এই ধরনের ঘটনার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
বিশেষ করে আমার ঘটনার পর প্রায় একই জায়গায় এক নারীর সাথেও একই ঘটনা ঘটে। আমরা যাদের সাথেই আলাপ করেছি, তাদের কাছ থেকে আরও কতগুলো ঘটনার কথা শুনেছি। এসব ঘটনা শুনে মনে হয়েছে, এই পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে ভাবার সুযোগই যেন আমাদের নেই।
বিশেষ করে টিনএজ বয়সীরা কেন এসবের সাথে জড়াচ্ছে—এই ভাবনা রাষ্ট্রের কোথাও নাই। থাকলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় কী করে?
ঘটনার দিন বিকেলে দুইজন ১৮–২০ বছর বয়সী কিশোর হঠাৎ আমার সামনে এসে অস্ত্র ধরে ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিতে শুরু করে। এরপর আমাকে বাধ্য করে পেছনের দিকে যেতে।
কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আমি যখন ফিরছিলাম, তখন অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি—ওরা কোন দিকে গেছে। কেউ বলতে চাইনি।
ফিরে এসে আমরা থানায় যোগাযোগ করি। আমার রাজনৈতিক কর্মী পরিচয় দেওয়ার কারণে পুলিশ আমাদের প্রতি আন্তরিক ছিল। তবে বাইরে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে অভিযোগপত্র টাইপ করে আনতে হয়েছে। এর এক দিন পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। এতে কিছুটা বিরক্ত হলেও আমরা ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রাখছি।
কিন্তু ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর সমাধান প্রশাসনের কাছে নেই বলেই মনে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি নতুন এসেছেন। তিনি আন্তরিক আচরণ করেছেন। কিন্তু এই ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে ওনাদের যে রোডম্যাপ, সেটা খুব একটা কাজে দেবে বলে মনে হচ্ছে না।
যে বাড়ির সামনে ঘটনা ঘটেছে, বাড়ির মালিক জাতীয় সংসদের একজন উপসচিব। ভদ্রলোক আমাদের সিসিটিভি ফুটেজ দিয়েছেন। বিষয়গুলোতে উনি এতটাই হতাশ যে তিনিও ভাবছেন এই এলাকার বাইরে থাকার ব্যাপারে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির অনুভূতি যদি এই হয় তবে দেশের সাধারণ নাগরিকের কি পরিস্থিতি!
দুই দিন পর তিনি ফোন দিয়ে আমাদের ভিডিওর শর্ট ফর্মটা চাইলেন। জানালেন, প্রায় কাছাকাছি জায়গায় আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। তিনি দুইটা ঘটনা মিলিয়ে দেখতে চান।
আজ তাদের দারোয়ান জানালেন, এক নারী একই রকম ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।
একটা ফোন, কিছু টাকা ছিনতাই হয়েছে—এটা জীবনের চেয়ে বড় নয় হয়তো। কিন্তু এই যে জানমালের নিরাপত্তার জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সরকারের কাজ কী?
জুলাই অভ্যুত্থানের এত বড় আত্মত্যাগের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ঠিক পুরনো কায়দায় চলছে বললে ভুক্তভোগীরা বলবেন—এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা।
একজন নাগরিকের নিরাপত্তা এবং তার মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি রাষ্ট্র মোটেই কেয়ার করছে না। যার পরিণতি আরও ভয়াবহতার দিকে নিয়ে যাবে।
আমি এই ঘটনা নিয়ে কথা বলছি শুধু নিজের ফোন বা টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে নয়। আমার মতো আরও যারা প্রতিদিন এই শহরে চলাফেরা করেন, তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নেও বিষয়টি সামনে আসা দরকার।
একই জায়গায় বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটবে, মানুষ আতঙ্কিত হবে, তারপরও যদি এর কার্যকর সমাধান না হয়—তাহলে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি আসলে কোথায়?