ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অঞ্চলে হামাস উৎখাতের উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গাজার বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। আকাশ ও স্থল অভিযান, পাশাপাশি ত্রাণ সরবরাহের অভাব, গাজাকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে।
গত তিন দিনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৫০ জন নিরপরাধ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোববার (১৮ মে) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে দুই দিনে উত্তর গাজাতে অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হামলায় গত ১৮ মাসে গাজায় ৫৩ হাজার ৩৬০ জনেরও বেশি নিরপরাধ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। অনেক পরিবার একবেলার খাবারও জোটাতে পারছে না, কিছু পরিবার তিন দিন ধরে কিছু খায়নি। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে উত্তরাঞ্চলে, যেখানে নিহতদের মধ্যে ৬৯ জনই এই অঞ্চলের বাসিন্দা।
গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, এবং সম্প্রতি হামলায় ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালও সেবা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ভয়াবহ অভিযান শুরু করে। ১৫ মাসের সামরিক অভিযানের পর, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসরায়েল ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফের বিমান হামলা শুরু হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৩ হাজার ২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই হামলা জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। মিশর ও কাতার যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছে, এবং কাতারের দোহায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে হামাস নেতা ওসামা হামদান জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু প্রস্তাব তাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
নেতানিয়াহু প্রশাসন বলছে, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে হামাসকে অস্ত্র ছাড়তে হবে এবং গাজা থেকে চলে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তির প্রস্তাবের পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তির বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নেতানিয়াহু কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে হামাসকে সব জিম্মি মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের সব সদস্যকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে।