বাংলাদেশের আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে মাছ রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে ছয় ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।
মৎস্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া জানিয়েছেন, কিছু ব্যক্তিগত কারণে আজ মাছ রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামীকাল থেকে রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।
ভারত সরকারের এই হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্য রক্ষায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, সুতা ও সুতার উপজাত এবং আসবাবপত্র। উল্লেখ্য, এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও কাঠের আসবাব ছাড়া বাকি সব পণ্য নিয়মিতভাবে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হতো।
আখাউড়া স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৪২৮ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৪৫৩ কোটি টাকার পণ্য, যেখানে আমদানি ছিল তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ১০৬ টন পণ্য আমদানি হয়েছে।
স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, প্রতিদিন ৪০-৫০টি গাড়ি রপ্তানিতে অংশ নিত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর বর্তমানে শুধুমাত্র মাছ, সিমেন্ট ও শুঁটকি মাছ রপ্তানি হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে তা সরবরাহ করা হয় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে। ভারতের এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।