ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার আদালতগুলোতে মামলাজট ক্রমশ বাড়ছে, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চালাতে গিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারি আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতে মামলা নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে এবং জট কমাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চলছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের মোক্ষপুর এলাকার আব্দুল মান্নান জমি সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি চেয়ে ৩৪ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে আমি একটি বাটোয়ারা মামলা করি। এরই মধ্যে মামলার তিনজন আইনজীবী মারা গেছেন। আমিও এখন মারা যাওয়ার পথে। অথচ এখনও মামলাটি নিষ্পত্তি হলো না। জমির ন্যায্য হিস্যাটা বুঝে পেলাম না। মামলার পেছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আমি এখন নিঃস্ব-ক্লান্ত।’
ময়মনসিংহের আদালতে এমন মান্নানদের সংখ্যা হাজার হাজার। বিচার পেতে বছরের পর বছর ঘুরেও অনেকেই পাচ্ছেন না ন্যায়বিচার। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজের ২০টি আদালতে প্রায় ৬৯ হাজার ৭২৮টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা ঝুলে আছে। এছাড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২৮ হাজার ২৬টি।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বিভাগের অন্যান্য তিন জেলা জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনায়ও। জামালপুরে জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ২৭টি আদালতে ২৫ হাজারের বেশি মামলা আটকে আছে। শেরপুরের আদালতে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বিচারধীন মামলার সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৬৬টি। নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক সংকট না থাকলেও ৩১ হাজার ৬১৭টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা জমে আছে। আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে বিচারপ্রার্থীরা নাজেহাল হয়ে পড়ছেন।
ময়মনসিংহ জজ কোর্টের আইনজীবী এম এ হান্নান খান মন্তব্য করেন, ‘অনেক মিথ্যা মামলার কারণেও মামলার সংখ্যা বাড়ে। সেক্ষেত্রে থানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মামলার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে যদি মামলাগুলো নেয়া যায় তাহলে মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।’
জামালপুর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতে মামলা নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে।
ময়মনসিংহ জজ কোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল হক জানান, ‘এখন প্রতি মাসেই অনেক চেয়ে অনেক বেশি মামলা নিষ্পতি হচ্ছে। কোনো মামলা আটকে রাখা হচ্ছে না। বিচারকরা দ্রুত সময়েই রায় দিয়ে দিচ্ছেন। আমরাও আমাদের দিক থেকে চেষ্টা করছি। জট কমাতে চলছে সম্মিলিত চেষ্টা।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার আদালতে প্রতিদিন বিচার সংক্রান্ত কাজে আসেন ৫ হাজারের বেশি বিচারপ্রার্থী।