শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং বেসামরিক মানুষজন, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিন। বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন।”
বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে ভীতি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। মালালা এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “আমরা একে অপরের শত্রু নই। ঘৃণা ও সহিংসতা আমাদের সাধারণ শত্রু।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সম্মিলিত নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য শান্তিই একমাত্র পথ।” মালালা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এখনই সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করে।
সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় দেশের বেসামরিক মানুষদের প্রিয়জন হারানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। মালালা এই ‘বিপজ্জনক সময়ে’ পাকিস্তানে তার বন্ধু, পরিবার এবং সমর্থকদের কথা স্মরণ করেন।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়, যা ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরে সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভারত পাকিস্তানকে এই হামলায় পরোক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ করে এবং ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে।
ভারতের এই পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তান সিমলা চুক্তি স্থগিত এবং ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা যুদ্ধের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসছে।
মালালা ইউসুফজাই ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার মিনগোরায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর তিনি স্কুল থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুস্থ হয়ে তিনি পড়াশোনা শুরু করেন এবং বর্তমানে সপরিবারে সেখানে বসবাস করছেন।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে মালালার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল laureate হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি তার আত্মজীবনী ‘আই অ্যাম মালালা: হাউ ওয়ান গার্ল স্টুড আপ ফর এডুকেশন অ্যান্ড চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রকাশ করেছেন এবং নারীশিক্ষা বিস্তারে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন।