সম্রাট হাসান তুহিন নামের এক ব্যক্তি, যিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন, এলাকার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করেছেন সম্রাটের স্ত্রী হোসনা বেগম। জানা গেছে, দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে বিরুদ্ধমতের পর, হোসনা স্বামীর গোপন তথ্যে প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের ময়মনসিংহ সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে উল্লেখ আছে যে সম্রাট মিথ্যা তথ্য প্রদান করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি নিয়েছেন।
সম্রাট সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের শেখেরগাঁও গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের পুত্র। বর্তমানে তিনি রাঙামাটির কাউখালী থানায় কর্মরত। কাবিননামার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার হেলোচিয়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের কন্যা হোসনার সাথে তাঁর বিবাহ হয়। তবে হোসনা লিখিত অভিযোগে দাবি করেন যে, তাঁদের বিয়ের সময় ২০১২ সাল ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালে সম্রাট পুলিশের কনস্টেবলে নিয়োগ পায়। চাকরি পাওয়ার সময় সম্রাট মৃত ইসাক আলীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হককে নানা পরিচয়ে ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ নোটারি পাবলিকে হলফনামা তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা গ্রহণ করেন।
এছাড়াও, সম্রাট ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানায় দায়ের করা একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি, ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ময়মনসিংহ মহানগর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পালগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হক জানান, তিনি সম্রাট হাসান তুহিন নামে কারো সন্তান নেই এবং এই নামে কাউকে চেনেন না। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ চাকরি পেয়েছে।
সম্রাটের স্ত্রী হোসনা বেগম জানিয়েছেন, তাঁদের ১০ বছরের সংসারে কোনো সন্তান নেই, কারণ স্বামী সন্তান চাইছেন না এবং তিনি অন্য নারীর সঙ্গে সংযুক্ত। তিনি বলেন, তাঁর আসল নানার নাম আব্দুর রশিদ।
অপরদিকে, অভিযুক্ত সম্রাট হাসান তুহিন দাবি করেছেন, মো. মঞ্জুরুল হক তাঁর নানা। তিনি (মঞ্জুরুল) যে অস্বীকার করবেন, তা হবে না। এ বিষয়ে তাঁর নানার সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবস্থা ভালো নয়।