যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতমূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে জোরেশোরে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক সভায় কিম তার দেশের সেনাবাহিনী, অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসমূহ, পারমাণবিক প্রকল্প এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা খাতকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।বার্তা সংস্থাটি আরও জানায়, সভায় কিম যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধত আচরণের ফলে কোরিয়া উপদ্বীপে সামরিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন।উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান মিলে অতি সম্প্রতি একটি ত্রিদেশীয় জোট গঠন করেছে এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদান করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।ডিসেম্বরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দরে একটি পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজ পাঠায় । এছাড়াও, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের সাথে সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার বোমারু বিমানকে নিয়োজিত করেছে।এদিকে, তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তর কোরিয়া তাদের প্রথম গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। পাশাপাশি, দেশটি হুয়াসং-১৮ নামে তাদের এযাবৎকালের সর্বোচ্চ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং সংবিধানে নিজেদেরকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।এদিকে, এ সপ্তাহের শুরুতে কিম ২০২৩ সালকে পরিবর্তন এবং জয়ের বছর হিসেবে উল্লেখ করেন।সম্প্রতি রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে পিয়ংইয়ং। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে অস্ত্র সরঞ্জাম দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বিনিময়ে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে মস্কো।