নোয়াখালীর আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ।
নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অদিতার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল। এ ঘটনা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার দিন রাতেই অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
নিহতের পরিবার জানায়, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে রনি ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় ঢুকে অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।
অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, “আমার মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চাই। খুনির এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ ও পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। রনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন ও আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।