শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের বেলায় মহাসড়ক এবং গ্রামীণ রাস্তাগুলোতে দৃষ্টিসীমা (visibility) এতটাই কমে আসছে যে কয়েক ফুট দূরের বস্তুও দেখা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
প্রতি বছর শীতে কুয়াশাজনিত কারণে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায় এবং এর বড় একটি অংশের শিকার হন বাইক আরোহীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন কুয়াশায় বাইকের হেডলাইটের আলো ছড়িয়ে পড়ে, যা চালকের জন্য উল্টো ‘সাদা পর্দা’র মতো বাধার সৃষ্টি করে। এতে সামনের রাস্তা বা বিপরীত দিক থেকে আসা যান বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া কুয়াশার আর্দ্রতায় রাস্তা ভিজে পিচ্ছিল হয়ে থাকে, ফলে ব্রেক কষলে বাইকের চাকা স্লিপ করার প্রবণতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এবং ট্রাফিক বিভাগ এই সময়ে বাইক চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। কুয়াশায় নিরাপদে বাইক চালাতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:
১. গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ: কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কম থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম গতিতে বাইক চালাতে হবে। যাতে হঠাৎ কোনো বাধা সামনে এলে নিরাপদে থামা সম্ভব হয়।
২. লো-বিম হেডলাইট ব্যবহার: ভুলেও হাই-বিম বা আপার লাইট ব্যবহার করবেন না। হাই-বিমের আলো কুয়াশায় প্রতিফলিত হয়ে চালকের চোখেই ফিরে আসে। সবসময় লো-বিম বা ডিপার ব্যবহার করুন, এতে রাস্তা পরিষ্কার দেখা যায়। সম্ভব হলে হলুদ ফগ লাইট ব্যবহার করুন।
৩. নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা: সামনের গাড়ি থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ পিচ্ছিল রাস্তায় ব্রেকিং দূরত্ব বেড়ে যায়।
৪. রিফ্লেক্টিভ গিয়ার ব্যবহার: কুয়াশায় অন্য চালকরা যাতে আপনাকে দূর থেকে দেখতে পায়, সেজন্য উজ্জ্বল রঙের জ্যাকেট বা রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট (Reflective Vest) পরিধান করুন। হেলমেটের পেছনেও রিফ্লেক্টিভ স্টিকার লাগানো যেতে পারে।
৫. হেলমেটের ভাইজর পরিষ্কার রাখা: হেলমেটের গ্লাসে বা ভাইজরে কুয়াশা জমে ঝাপসা হয়ে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। অ্যান্টি-ফগ স্প্রে ব্যবহার করা বা নিয়মিত গ্লাস পরিষ্কার রাখা জরুরি।
৬. ইন্ডিকেটর ও হর্ন ব্যবহার: লেন পরিবর্তন বা মোড় ঘোরার আগে অবশ্যই ইন্ডিকেটর ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে হর্ন দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিন। তবে হ্যাজার্ড লাইট (চারটি ইন্ডিকেটর একসাথে জ্বালানো) শুধুমাত্র বাইক থামিয়ে রাখলেই ব্যবহার করা উচিত, চলন্ত অবস্থায় নয়।
সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই ঘন কুয়াশায় খুব জরুরি প্রয়োজন না হলে বাইক চালানো এড়িয়ে চলাই উত্তম। আর যদি চালাতেই হয়, তবে তাড়াহুড়ো না করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তবেই রাস্তায় নামুন। একটি ছোট অসতর্কতা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।