প্রচ্ছদ জাতীয় ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ ভবন নির্মাণে অনুমোদন দিচ্ছে রাজউক

ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ ভবন নির্মাণে অনুমোদন দিচ্ছে রাজউক

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 2 মিনিট পড়ুন
ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ ভবন নির্মাণে অনুমোদন দিচ্ছে রাজউক

রাজধানী ঢাকায় অবৈধ ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদানের অভিযোগ উঠেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজধানীতে গড়ে উঠছে অসংখ্য বহুতল ভবন, যা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজউক কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছেন এবং নকশা বহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে নিজেদের কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে নীরব রয়েছেন। রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও, ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন।

অথরাইজড অফিসার শেগুফতা শারমিন আশরাফসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা টাকার বিনিময়ে বিধিমালা ভেঙে এক জোনের দায়িত্বে থেকে অন্য জোনের আওতায় সাতটি ভবনের নকশার অনুমোদন দিয়েছেন। এই অফিসারের বিরুদ্ধে নকশা জালিয়াতি ও ভবনের ত্রুটি ধরে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে যে, রাজউকের দেয়া অবৈধ অনুমোদনের নকশার নথি হাতে এসেছে। এসব নথিতে দেখা যায়, অনলাইন আবেদন ফর্মে নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে ১০তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যেখানে প্রস্তাবিত ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে রাজউকের জোন-১ বাসান মৌজা, জয়দেবপুর থানা। কিন্তু অনুমোদিত নকশার মূল কাগজে দেখা যায়, অনুমোদন দেয়া হয়েছে রাজউকের জোন-৩/১ ঢাকার জোয়ার সাহারা মৌজায়।

রাজধানীর মিরপুর ইসিবি চত্ত্বর থেকে বিল্লাল হোসেন সড়কের সরু গলির রাস্তা ধরে এগোলে দেখা যায়, সড়কের শেষ প্রান্তে বেশ কয়েকটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ২০২২ সালের ড্যাপের ম্যাপ অনুযায়ী, এটি একটি রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া। কিন্তু গুগল ম্যাপের ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত দেখা যায়, এলাকাটি মূলত জলাশয় ও কৃষি জমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এখানে ভবন নির্মাণ অবৈধ হলেও টাকা দিয়ে বৈধতা পাওয়া যায়।

নকশা অনুমোদনে দালাল ও দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য ২০১৯ সালে রাজউক অনলাইন সেবা চালু করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারী যে আইডিতে ছাড়পত্রের আবেদন করবেন, সেই একই আইডিতে নকশার জন্যও আবেদন করতে হবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে অনুমোদন পাওয়া সকলেরই অনলাইন আইডি পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেছে, যা রাজউকের ভূমি ছাড়পত্রগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ছাড়পত্রে দেয়া কিউ আর কোড স্ক্যান করলে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

রাজউকের আদেশ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শেগুফতা শারমিন আশরাফকে সহকারী অথরাইজড অফিসার থেকে অথরাইজড অফিসার পদে পদন্নোতি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কখনো ৩/১ জোনের দায়িত্বে ছিলেন না। পদন্নোতির এক মাসের মধ্যে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে সাতটি ১০তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন সেই সময়ের জোন-১ এর দায়িত্বে থাকা ইমারত পরিদর্শক ও বিসি বোর্ডের সদস্য। তারা নিজেদের দোষ চাপাচ্ছেন একে অপরের ওপর।

এ বিষয়ে রাজউক কর্মকর্তাদের অফিসে গেলে প্রথমে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। পরে অপেক্ষা করতে বললেও ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে ফিরে যেতে বলা হয়। রাজউক কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়গুলো তুলে ধরলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাজউক চেয়ারম্যান একদিন সময় নেন। তিনি বলেন, “আমাকে একটা দিন সময় দিন। জিজ্ঞাসা করি। ভুলত্রুটিতে আমাদের ভূমিকা, হাউজিংয়ের ভূমিকা, তাদের কেউ তো একটা সুযোগ দিতে হবে তাই না।

পরদিন প্রতিবেদককে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করানোর পর অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে রাজউক চেয়ারম্যান গতানুগতিক তদন্তের আশ্বাস দেন। একদিকে অনিয়মের সুযোগ দিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নকশা বহির্ভূত ভবনের অতিরিক্ত অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00