পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার এই যাত্রা কয়েক দিন ধরে চললেও ঈদের মাত্র দুই দিন আগে যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে।
বুধবার সরেজমিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, উপচেপড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেলেও বড় ধরনের কোনও শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। নির্ধারিত সময়েই ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
তবে ঈদযাত্রার আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বগুড়ার সান্তাহার জংশন ছেড়ে যাওয়ার পরপরই ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় অন্তত শতাধিক যাত্রী আহত হলেও এখন পর্যন্ত কোনও নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার ফলে উত্তরাঞ্চলের স্পঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। দ্রুত রেলপথ সচল করা না গেলে ঈদযাত্রার বাকি সময়ে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।।
এদিন সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং প্ল্যাটফর্ম জুড়ে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক যাত্রী ঝামেলা এড়াতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে এসে অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও প্রতিটি কোচেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। আসন নিশ্চিত করতে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি দেখা গেছে এবং ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণ করছেন।
লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রী সোহেল রানা জানান, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনেছেন। কিন্তু ভেতরে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় ছাদে উঠতে হয়েছে।
একই ট্রেনের আরেক যাত্রী তৈরি পোশাক শ্রমিক মিনহাজুল ইসলাম জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছাদে উঠেছি কারণ বাড়ি যাওয়ার বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, আগে থেকেই স্টেশনে এসে আসন নিশ্চিত করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন পাটগ্রামগামী যাত্রী মোহাম্মদ আলম।
এদিকে ঈদ স্পেশাল ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী শিখা বেগম ভিড় দেখে ট্রেনে উঠতে পারবেন কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সিলেটগামী যাত্রী তাসনিম শুভ্রা বলেন, ঈদের সময় ট্রেন মিস হওয়ার ভয় থাকায় আগেই চলে এসেছেন তিনি। ভিড় বেশি হলেও পরিবেশ ভালো লাগছে বলে জানান তিনি।
খুলনাগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, শেষ সময়ে টিকিট পাওয়া কঠিন হওয়ায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন। ভিড় থাকলেও যাত্রীরা মোটামুটি শৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোহনগঞ্জগামী যাত্রী আশিকুর রহমান জানান, ট্রেন ছাড়তে দেরি থাকায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস, জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস, নকশিকাঁথা, অগ্নিবীণা এবং রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জ কমিউটারসহ একাধিক ট্রেন পর্যায়ক্রমে ঢাকা ছেড়ে গেছে।
ছুটির দ্বিতীয় দিনে দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৪৫টি আন্তঃনগর এবং ২১টি লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল করছে। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ছেড়ে যাওয়া সব ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলেছে।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত কোনও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি এবং যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গেই যাতায়াত করছেন।
নীলসাগর এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।