
‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, চাঁদাবাজি ছাইড়া দে’ স্লোগানটি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্ব এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের উচ্চারিত একটি বহুল আলোচিত ও তীব্র প্রতিবাদী স্লোগান। হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আরিফ সোহেলসহ জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বিভিন্ন প্রতিবাদ সভা ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অবৈধ প্রভাব খাটানোর বিরুদ্ধে এই সুর চড়ান।
স্লোগানটির প্রেক্ষাপট ও মূল বক্তব্য
১. চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি:
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত এবং হাটে-বাজারে নতুন করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠতে থাকে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কণ্ঠে ধারণ করে এনসিপি নেতারা প্রকাশ্য জনসভায় এই কঠোর স্লোগান দেন।
২. নৈতিকতার বার্তা ও তীব্র কটাক্ষ:
স্লোগানটির মূল বক্তব্য অত্যন্ত ঝাঁঝালো ও স্পষ্ট। নেতাদের বক্তব্য হলো—পরিশ্রম না করে অন্যায়ভাবে মানুষের রক্তঘাম করানো কষ্টার্জিত টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার চেয়ে ভিক্ষা করাও ভালো। অপরাধমূলক উপায়ে অর্থ উপার্জনের চেয়ে আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেওয়া কম ক্ষতিকর—এই তীব্র কটাক্ষের মাধ্যমেই মূলত চাঁদাবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
৩. নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান:
হাসনাত আবদুল্লাহ ও অন্য নেতারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কোনো নতুন চাঁদাবাজ বা দখলদারদের স্থান দেওয়ার জন্য হয়নি। পুরনো শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন, দুর্নীতিমুক্ত এবং পেশিশক্তিহীন বাংলাদেশ গড়াই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
৪. জনগণকে সোচ্চার করার প্রয়াস:
এই স্লোগানটির মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজদের ভয় না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সোচ্চার হতে এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তরুণ নেতারা বারবার আহ্বান জানান।
সারসংক্ষেপ:
‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, চাঁদাবাজি ছাইড়া দে’ কেবল একটি মুখরোচক স্লোগান নয়; এটি গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনকে চাঁদাবাজিমুক্ত করার এক বলিষ্ঠ সামাজিক অঙ্গীকারের প্রতীক।