প্রচ্ছদ জাতীয় শেরপুর-ময়মনসিংহ বিকল্প সড়কের কাজ তিন বছরেও কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়নি।

শেরপুর-ময়মনসিংহ বিকল্প সড়কের কাজ তিন বছরেও কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়নি।

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 3 মিনিট পড়ুন
শেরপুর-ময়মনসিংহ বিকল্প সড়কের কাজ তিন বছরেও কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়নি।

শেরপুর (কানাসাখোল)-ভীমগঞ্জ-নারায়ণখোলা-রামভদ্রপুর-পুরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) প্রকল্পের কাজ দুই বছরে শেষ করার শর্তে শুরু হয় ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট। কিন্তু অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘ সূত্রিতায় তিন বছরেও কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়নি।

অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করলেও অধিগ্রহণের কাজ একটুও এগোয়নি। 

আগামী জুনে সময় বাড়ালে শর্তমতে কাজের মূল্য বাড়াতে হবে। ফলে অপচয় হবে সরকারি অর্থ। 

প্রকল্প বাস্তবায়ন কারি সরকারি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে- অধিগ্রহণের দীর্ঘ সূত্রিতায় কাজ আগানো যাচ্ছে না। আগামী মাসে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।   

জানা যায়, বর্তমানে শেরপুর-ময়মনসিংহের দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার। এই বিকল্প সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলে দুই জেলার মধ্যে দূরত্ব কমবে ২০ কিলোমিটার। শেরপুর-ময়মনসিংহের অনগ্রসর বিশাল চরাঞ্চলের ভেতর দিয়ে বিকল্প ওই সড়কটি করার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার।‌ 

বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের সহজ যোগাযোগ ও অনগ্রসর চরাঞ্চলবাসির জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ৪৪.৯০৬ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩৩.৭৮ ফুট। এছাড়া সড়কে ৮টি বড় সেতু ও শতাধিক ছোট ও মাঝারি কালভার্ট ধরা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ জানায়, এই প্রকল্পের কাজ চারটি প্যাকেজ ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজ সদর উপজেলার কানাশাখোলা থেকে শুরু হয়ে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা পর্যন্ত ১৩.৫০০ কিলোমিটার। দ্বিতীয় প্যাকেজ চন্দকোণা থেকে ময়মনসিংহের শুরু চরবসন্তি (রামভদ্রপুর) পর্যন্ত ১১.১২১ কিলোমিটার।

এই দুই প্যাকেজের কাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব শেরপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। বাকী দুই প্যাকেজ ব্রহ্মপুত্রের উপর ব্রিজ ( রহমতপুরের ব্রহ্মপুত্রের উপর ১৪৭১ মিটার ব্রিজ) ও (রামভদ্রপুর-পুরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) পর্যন্ত ১৯.৬২১ কিলোমিটার সড়ক বাস্তবায়ন করছে ময়মনসিংহ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

প্রথম প্যাকেজের কিছু কাজ বাস্তবায়ন হলেও, স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাকি কাজ হচ্ছে না। প্যাকেজ শুরুর অংশ কানাশাখোলা বাজারে জেলা পরিষদের একটি মার্কেট ভাঙার অনুমতি না পাওয়ায় শুরুর অংশেই কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। 

আর দ্বিতীয় প্যাকেজের ১১.১২১ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ করে ৮ মাস যাবৎ বসে আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকি ৬ কিলোমিটার সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, জেলার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩০ শতাংশ, আর সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এখানেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা রয়েছে ও সড়কের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন দীর্ঘ দিন কাজ করেনি বলে জানিয়েছেন ওই জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত আলী। 

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, গত মাসে ঠিকাদার বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগ ও অধিগ্রহণ জোরদার করে কাজের গতি আনা হবে। 

কাজের দীর্ঘ সূত্রিতায় স্থানীয় এলাকাবাসী বিরক্তি প্রকাশ করছে। 

স্থানীয়দের দাবি, এই কাজটি করতে এত হেলাফেলা কেন? সমস্যা দূর করে দ্রুত কাজ শেষ করা হোক।

শেরপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম জানায়, স্থাপনা উচ্ছেদ ও অধিগ্রহণ না হওয়ায়, হাতে কোনো কাজ থাকবে না ফলে প্রকল্পের কাজ আগামী মাসে বন্ধ হয়ে যাবে। সময়ের অপচয়ের সঙ্গে সঙ্গে আগামীতে কাজের মূল্য বাড়বে, সরকারের বেশি অর্থ ব্যয় হবে। গুরুত্ব বিবেচনায় এখনই অধিগ্রহণ সম্পন্ন করলেও আগামী জুনে কাজ শেষ হবে না।

জেলা প্রশাসক তরফতার মাহমুদুর রহমান জানায়, লোকবল সংকটে অধিগ্রহণ বিলম্ব হয়েছে। জেলা পরিষদের স্থাপনা ভাঙতে স্থানীয় সরকারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অধিগ্রহণ ও যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00