আজ বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাহানপুর সড়কে ‘ঝটিকা’ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হুশিয়ারি দেন ।
দেশের ১৮ কোটি জনগণ পাতানো নির্বাচন করতে দেবে না যেকোনো মূল্যে জনগণ রুখে দেবে বলে এই হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার তার বংশবদ নির্বাচন কমিশন ও সাজানো প্রশাসনকে দিয়ে যে একতরফা নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করছে, তা দেশের মানুষ মানে না।
আন্তর্জাতিক বিশ্বও তাদের এই সাজানো নাটক দেখছে।
রিজভী বলেন, ‘মাত্র একজন ব্যক্তির অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার উদগ্র লিপ্সার কারণে বাংলাদেশ এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়েছে।
বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। আওয়ামী লুটেরা চক্র শুধু অর্থনৈতিকভাবে দেশকে দেউলিয়া করেনি, দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতাও বিপন্ন করেছে।’
আমি বলতে চাই, অবৈধ তফসিল জনগণ মানে না। তোমাদের পাতানো নির্বাচন যেকোনো মূল্যে জনগণ রুখে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘এই লুটেরা চক্র শুধু বর্তমান প্রজন্মকেই নয়, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ঋণে ডুবিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উজ্জ্বল সম্ভাবনার পথও কঠিন করে দিয়েছে।
নিশিরাতের সরকারের দুর্নীতি দুঃশাসনের কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। অর্ধাহারে-অনাহারে কাটছে, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, স্বল্প আয়ের মানুষের দিনকাল।
এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে সংসার পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে।’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘চরম অর্থনৈতিক মন্দার পরিস্থিতিতে প্রহসনের নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা খরচ করার আয়োজন চলছে। জনগণের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনষ্টের হিসাব বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।
রিজভী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বিশ্বের সব হুঁশিয়ারি ও আহ্বান উপেক্ষা করে পাতানো ডামি নির্বাচনের সার্কাস করছেন শেখ হাসিনা। তার এই নির্বাচনী প্রহসন জেনে গেছে গোটা বিশ্ব। দেশের জনগণের আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে প্রকাশ্যে লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। অচিরেই তার ক্ষমতায় থাকার সাধ চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ। এখন একমাত্র করুণ পতনই শেখ হাসিনার নিয়তি।’
সকাল ৭টায় বৃষ্টির মধ্যে শাহজাহানপুর মোড় থেকে ১৫/২০ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে মিছিল বের করেন রিজভী। মিছিলটি পীর জঙ্গি মাজারের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলকারী ‘অবৈধ তফসিল মানি না, মানব না’, ‘আজকের অবরোধ সফল হউক সফল হউক’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। ৪/৫ মিনিট ‘ঝটিকা’ মিছিলটি শেষে রিজভী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।