প্রচ্ছদ বিশ্ব খামেনিকে হত্যা করতে হ্যাক করা হয়েছিল ট্রাফিক ক্যামেরা

খামেনিকে হত্যা করতে হ্যাক করা হয়েছিল ট্রাফিক ক্যামেরা

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 2 মিনিট পড়ুন
খামেনিকে হত্যা করতে হ্যাক করা হয়েছিল ট্রাফিক ক্যামেরা

অনেক দিনের প্রচেষ্টা ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মেরে ফেলার। কিন্তু সেই সুযোগটা মেলাতে পারছিল না তারা। কিছু দিন আগে যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল তখনও তার সেটা চেয়েছিল। তবে দীর্ঘদিনের সুক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। 

কিন্তু কিভাবে সেটা সম্ভব হলো? গত শনিবারের এই ভয়াবহ হামলায় খামেনির পাশাপাশি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

এই অভিযানের মাধ্যমে ইরান ও ইসরাইলের দীর্ঘদিনের ছায়া যুদ্ধ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

এদিকে ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের রাজপথের ট্রাফিক ক্যামেরাগুলো কয়েক বছর আগেই হ্যাক করেছিল ইসরাইল। এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে তারা শহরের প্রতিটি অলিগলি ম্যাপ করা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের ধরন পর্যবেক্ষণ এবং রাজধানী তেহরানের ভেতরে কী ঘটছে, তার একটি নিখুঁত চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম প্রকাশিত এই বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত একটি বিশাল ডেটা প্রসেসিং সিস্টেম। ইসরাইলি সূত্র মতে, এটি একটি ‘এআই-চালিত টার্গেট প্রোডাকশন মেশিন’। এতে মানুষের দেওয়া তথ্য, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স, হ্যাক করা যোগাযোগ মাধ্যম, স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ট্রাফিক ক্যামেরার ভিজ্যুয়াল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে শক্তিশালী কম্পিউটার এই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৪ ডিজিটের একটি নিখুঁত গ্রিড কো-অর্ডিনেট বা অবস্থান বের করে দেয়। ১০ বছর ধরে প্রযুক্তিবিদ, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ দল এই সিস্টেমকে নিখুঁত করার কাজ করেছে।

এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ জানিয়েছেন, এর আগে গত বছরের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় খামেনিকে টার্গেট করা হলেও তিনি ভূগর্ভস্থ বাংকারে লুকিয়ে থাকায় তখন সাফল্য আসেনি। 

আবার গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, খামেনি দিনের বেলা নিজেকে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষিত মনে করতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগায় ইসরাইল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহায়তায় খামেনির সঠিক অবস্থান শনাক্ত করার পর শনিবার স্থানীয় সময় সকালে দিনের আলোয় তাঁর কম্পাউন্ডে ৩০টি বোমা ফেলে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান।

খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি গত রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। এদিকে এই অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পালটা হামলা চালিয়েছে। কুয়েতে একটি মার্কিন অপারেশন সেন্টারে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা এলাকায় একটি অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে এই হামলা হয়।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তিন ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করেন এবং পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার বিকালে ট্রাম্প ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেন

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00