সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও গণপরিবহনে অনিয়ম বন্ধে সব ধরনের যাত্রীবাহী যানে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ট্র্যাকার বসানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রবিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান।
সড়ক মন্ত্রী বলেন, “পরিবহন নিয়ন্ত্রণে জিপিএস সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সব গণপরিবহনে এই প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে গাড়ির গতিবিধি, অবস্থান এবং ট্রাফিক আইন মানার বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, অনেক সময় চালকরা মাঝপথ থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বা বাড়তি ভাড়া নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলে। জিপিএস থাকলে এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে।
সভায় উপস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সকল বাস ও বাণিজ্যিক পরিবহনে জিপিএস স্থাপন করা হবে।
এই প্রযুক্তির ফলে কোনো গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রেকর্ড পুলিশের কাছে চলে আসবে এবং অপরাধীর ঠিকানায় জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারের ফলে রুট পারমিট লঙ্ঘন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি শনাক্ত করা সহজ হবে। অনেক সময় ফিটনেসবিহীন গাড়ির মালিকরা দাবি করেন যে তাদের গাড়ি রাস্তায় নামেনি। কিন্তু জিপিএসের মাধ্যমে তাদের এই ফাঁকি ধরা পড়বে।
বিআরটিএ এবং পুলিশ যৌথভাবে জিপিএস সমৃদ্ধ এই যানগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে। নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে গাড়ির মুভমেন্ট ট্র্যাক করা হবে।
বর্তমানে ডিএমপি এবং হাইওয়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরা ও স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল মামলা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জিপিএস প্রযুক্তির সংযোজনে সড়কে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।