মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। একই সাথে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে, যা এখন বেশ ঊর্ধ্বমুখী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাত থামাতে একটি চুক্তি নিয়ে অনেক দূর আলোচনা এগিয়েছে, যার বিস্তারিত খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের লেনদেন শুরু হতেই বিশ্বব্যাপী তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। জ্বালানির দাম কমে আসায় স্বস্তি ফিরেছে এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যে। বিশেষ করে জাপানের প্রধান শেয়ার বাজার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ এক লাফে আড়াই শতাংশ বেড়ে ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই যুদ্ধের কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছিল।
এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র নৌপথটি পুনরায় সচল করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সংকীর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, বিশেষ করে মার্চ মাস থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথেও তার ইতিবাচক কথা হয়েছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে ‘অবশ্যই’ দূরে রাখার কঠোর শর্ত থাকবে।
আলোচনার এই অগ্রগতির মধ্যেই পরদিন ট্রাম্প তার আলোচক দলকে কিছুটা ধীরস্থির হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনো তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে নিখুঁতভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে কিছু ক্ষেত্রে অবস্থানগত দূরত্ব কমলেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা বাকি রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির খবরে আপাতত তেলের দামে বড় স্বস্তি মিললেও বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তেল স্থাপনাগুলো মেরামত করা এবং বিশ্বজুড়ে কমে যাওয়া তেলের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।