ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতায় মৃত্যু উপত্যকা গাজা। দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ২৩ হাজার ৮৪ ফিলিস্তিনি।এর মধ্যে গেলো ২৪ ঘণ্টাতেই নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াইশ’ ফিলিস্তিনি। আহত হন কমপক্ষে ৫শ মানুষ।এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়।এছাড়া, গেলো সোমবার ইসরাইলি হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ দুই জন। আল-আকসা হাসপাতালসহ দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল ।এর পাশাপাশি জাবালিয়া এবং দেইর আল জৌর শরণার্থী শিবিরেও হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হতাহতদের বেশিরভাগই শিশু। হামলার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ওষুধ এবং খাবারের তীব্র সংকট। চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।তুরস্কের বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলি আক্রমণে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত। অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অব্যাহত অবরোধের কারণে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি । ফিলিস্তিনি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজায় ৫৫টি মসজিদ, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি গির্জা এবং পাঁচটি ভবন ধ্বংস হয়েছে। বিবৃতি অনুসারে, ১ হাজার ৮শ’ শিশুসহ প্রায় ৬ হাজার জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।এদিকে, ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি চিকিৎসকরাও। মোট ২০০ চিকিৎসক, ২২ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং ৫১ জন সাংবাদিকও হামলায় নিহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে ২৫টি হাসপাতাল, ৫২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৫৫টি অ্যাম্বুলেন্সকে ইসরায়েলি বাহিনী লক্ষ্যবস্তু করেছে।অপরদিকে, হামাসের আকস্মিক আক্রমণে ১২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। আকস্মিক এই হামলায় জিম্মি করা হয় ২৪০ জন ইসরায়েলিকে।