ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত যুবলীগ কর্মী তারা মিয়া (৪৫) নামের ব্যক্তি এই কার্ড পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তারা মিয়া দাবি করেছেন, বিএনপি নেতা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ও ছবি ছড়াচ্ছেন।
তারা মিয়া উপজেলার মশাখালী টানপাড়া গ্রামের হক মিয়ার ছেলে এবং গত মঙ্গলবার গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হয়। গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন.এম. আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না এবং তালিকা অনুযায়ী কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যদি তারা মিয়া জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়ার সঠিক প্রমাণাদি দিতে না পারেন, তাহলে তার গেজেট বাতিল করা হবে। ইতোমধ্যে তার কাছ থেকে স্বাস্থ্য কার্ড ফেরত নেয়া হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে একজন পুলিশ পরিদর্শক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন প্রতিনিধি এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত তারা মিয়া বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ২০০০ সালের দিকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ছবিগুলো এডিট করা হয়েছে। গফরগাঁওয়ে আন্দোলনের সময় তিনি গাজীপুরের মাওনাতে অংশ নেন এবং সেখানে পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল হাসান চমক ফকির তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এই মনিরুলের ভাই মিলন ফকির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তিনি তার বাবাকে রাজাকার বলে মামলা করিয়েছিলেন।