শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গত পাঁচ দিন ধরে খাদ্যের সন্ধানে ৩০ থেকে ৪০টি বন্য হাতির একটি দল লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এই ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাতির দলটি দিনের বেলায় পাহাড়ের টিলাগুলোতে অবস্থান করে, কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই নলকুড়া ও কাংশা ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে চলে আসে। নিজেদের ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য গ্রামবাসীরা মশাল জ্বালিয়ে এবং হইহুল্লোড় করে হাতিগুলোকে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কৃষক সাব্বির জানান, তার বরবটি ও বেগুনের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, “হাতির এই অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ এবং সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, হাতির খাবারের জন্য ইতোমধ্যে সুফল বাগান তৈরি করা হয়েছে এবং চলতি মাসে গারো পাহাড়ের প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “কলাগাছ বড় হলে খাদ্যের সংকট কিছুটা কমবে।” তিনি আরও জানান, বন বিভাগ এবং ইআরটি (Emergency Response Team) সার্বক্ষণিক হাতিগুলোকে জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।” তিনি মনে করেন, সীমান্তে হাতির খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে এই সমস্যা অনেকটাই সমাধান করা যাবে।