ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক ‘ইস্টার’ বার্তা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট, উভয় পক্ষের রাজনীতিক, বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই বার্তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে অবিলম্বে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণের দাবি তুলেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে তাকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ ঘোষণার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।
মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর চার নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য মনে করেন, প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তারা তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে অনেক আইনপ্রণেতা ‘উন্মাদনা’ এবং ‘ভয়ংকর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর ইস্টার রোববারে প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য একজন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। কংগ্রেসের এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জিম ম্যাকগভার্ন সরাসরি ট্রাম্পকে ‘সাইকোটিক’ বা মানসিক রোগী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডক্টর বিন গুপ্তার মতে, ট্রাম্পের আচরণে ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রমের সব লক্ষণ স্পষ্ট। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বিশ্বমঞ্চে নিজের উন্মাদনা প্রদর্শন করছেন যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
এমনকি সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জো ওয়ালশও ট্রাম্পের অপসারণ দাবি করে বলেছেন, ট্রাম্পের ধর্মীয় উপদেষ্টারা তাকে যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা অত্যন্ত বিসদৃশ এবং বিপজ্জনক।
প্রেসিডেন্টের এমন ‘অসংলগ্ন’ আচরণের মুখেও মন্ত্রিসভার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক রাজনীতিক। প্রতিনিধি ইয়াসমিন আনসারি এবং মেলানি স্ট্যানসবারি মনে করেন, মন্ত্রিসভা এবং কংগ্রেসের এখনই উচিত ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করা। সিনেটর ক্রিস মারফি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মানবাধিকারকর্মী মেলানি ডি’আরিগো অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের পরিবার এবং দাতারা এই যুদ্ধ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বলেই মন্ত্রিসভা নীরব দর্শক হয়ে আছে।
সাংবাদিক ক্যান্ডাস ওয়েন্স এই প্রশাসনকে ‘শয়তানি প্রশাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ট্রাম্পের চারপাশের ধর্মীয় উগ্রবাদীরা তাকে ‘মসিহ’ বা ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ট্রাম্পকে একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। সাবেক মেয়র স্যাম লিকার্ডো স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প আর অফিস পরিচালনার জন্য মানসিকভাবে উপযুক্ত নন এবং মন্ত্রিসভার নৈতিক দায়িত্ব হলো তাকে সরিয়ে দেওয়া।
ইরান-মার্কিন যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের মানসিক সুস্থতা নিয়ে ওঠা এই বিতর্ক আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে মার্কিন মন্ত্রিসভা এবং কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।