প্রচ্ছদ জাতীয় বৈসাবির মাধ্যমে বাকি জাতিসত্তাগুলো তাচ্ছিল্য করা হয়েছে

বৈসাবির মাধ্যমে বাকি জাতিসত্তাগুলো তাচ্ছিল্য করা হয়েছে

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 2 মিনিট পড়ুন
বৈসাবির মাধ্যমে বাকি জাতিসত্তাগুলো তাচ্ছিল্য করা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

বৈসাবি উৎসব পালনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি প্রধান জাতিসত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে বাকি ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোকে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে।” 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব (বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান) উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু। এই বিজু উৎসবটা আগে মন্ত্রণালয় পালন করেছে বৈসাবি হিসেবে। তিনটি সম্প্রদায় মিলে বৈসাবি (বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু)। কিন্তু ওখানে ১১ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে। আমি বলব, বিগত সরকারগুলো তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য করেছে।”

“সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী এটা উপলব্ধি করেছেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে যে যে সম্প্রদায় রয়েছে, যে যেটা পালন করে, তারা যার যার নাম নিয়ে উৎসব পালন করবে।”

দীপেন দেওয়ান বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, মুরুং, খেয়াং, বম, পাংখো, লুসাই, চাক এবং খুমি নামে ১১টি সম্প্রদায়ের জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। এদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসবের মূল বার্তা হলো শান্তি ও সম্প্রীতি।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১২ এপ্রিল ফুল বিজু। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদ বা ঝরণার জলে ফুল ভাসিয়ে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে। এদিন পুরনো বছরের গ্লানি মুছে ফেলার প্রার্থনা করা হয়।

১৩ এপ্রিল মূল বিজু। এদিন ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’ রান্না করা হয়। এতে ৮০ থেকে ১০৮ ধরনের সবজি দিয়ে খাবার তৈরি করা হয়। এটা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১৪ এপ্রিল সাংগ্রাই বা নববর্ষ। এদিন বড়দের আশীর্বাদ গ্রহণ ও বৌদ্ধ বিহারে পূজার পাশাপাশি মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে অতীতের সব দুঃখ ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, “এবারের উৎসবে চাকমাদের ‘ঘিলা খেলা’ ও ‘বলি খেলা’, ত্রিপুরাদের ‘গরাইয়া নৃত্য’ এবং ম্রোদের ‘বাঁশি নাচ’ বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। আধুনিক নকশায় তৈরি ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পিনোন-হাদি’ ও ‘রিনাই-রিসা’ও পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে।”

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে দীপেন দেওয়ান বলেন, “উৎসব উপলক্ষে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, “রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য তিন জেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো কেবল নিছক উৎসব নয়। এটি আমাদের পরিচয়। চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে পালিত এই উৎসবগুলোতে ফুটে ওঠে পাহাড়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরদের বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু, ম্রোদের চাংক্রান এবং খুমী ও বমসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের চাংলান উৎসব আজ একীভূত হয়ে সামগ্রিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্যরা, পার্বত্য সচিব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00