সোমবার, ০৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম অভিযোগ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো মুক্তিযুদ্ধের বিভ্রান্তিকর ইতিহাস উপস্থাপন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব অবকাঠামোতে রণাঙ্গনের বিস্তারিত বর্ণনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় নেই, বরং কেবলমাত্র একটি পরিবারের ছবি ও সরঞ্জাম দিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোটি টাকা মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ে গেলেও তারা তেমন কোনো গবেষণা করেনি।’
এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাভোগী শ্রেণি হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ সম্পত্তি, সুযোগ-সুবিধা ও অর্থকে দলীয়করণ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তৈরি অবকাঠামোতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা হয়েছে। অরক্ষিত সম্পত্তি, যা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় রয়েছে, সেগুলো মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পত্তির ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে থাকা সম্পত্তির সদ্ব্যবহার এবং ট্রাস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দ্রুত একজন পরামর্শক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম এবং তাদের আওতাধীন সম্পত্তিগুলোতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সকল প্রকল্পের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। বৈঠকে বর্তমান সরকারের সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম এবং আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।