প্রচ্ছদ সারাবাংলা গাড়ি চললেই কেঁপে ওঠে সেতু ঝুঁকির মুখে ধসের আশঙ্কা

গাড়ি চললেই কেঁপে ওঠে সেতু ঝুঁকির মুখে ধসের আশঙ্কা

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 2 মিনিট পড়ুন
গাড়ি চললেই কেঁপে ওঠে সেতু ঝুঁকির মুখে ধসের আশঙ্কা

শরীয়তপুরের কোটাপাড়া সেতুটি বর্তমানে একটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারী যানবাহন উঠলেই সেতুটি কাঁপতে শুরু করে, যা যাত্রীদের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর তলায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে রড বের হয়ে আছে। সেতুর নির্মাণের সময় থেকে এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং ২০১৭ সালে সড়ক বিভাগ কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোটাপাড়া প্রেমতলা সেতুটি নব্বই দশকে ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মিত হয়। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা মাথায় রেখে সড়ক বিভাগ পাশেই একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। নতুন সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে এর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে নানা জটিলতার কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে, পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করছে। এই সেতুতে গাড়ির চাপ কমানোর জন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা রাত-দিন কাজ করছেন, কিন্তু যাত্রী ও চালকরা সব সময় জীবনের শঙ্কায় রয়েছেন। সেতুর অধিকাংশ হাতলে পলেস্তারা খসে গেছে এবং কোথাও রড বের হয়ে আছে। একটি স্থানে বড় ছিদ্র তৈরি হয়েছে এবং তলার নিচে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। গ্রাম পুলিশ সদস্য সুলাইমান সরদার বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে ডিউটি করছি। আমাদের জীবন শঙ্কার মধ্যে আছে। গাড়ি উঠলেই ব্রিজটি কাপতে থাকে, তখন আমরা ব্রিজ থেকে নেমে নিচে দাঁড়িয়ে থাকি। মাঝেমধ্যে নিচে নামার অবস্থাও থাকে না, এরপরও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সব সময় চাই, চালক আর যাত্রীদের যেন কোন ক্ষতি না হয়।’

এক গাড়িচালক লিটন শিকদার বলেন, ‘ব্রিজের কন্ডিশন অনেক খারাপ। গাড়ি ব্রিজে উঠালেই ব্রিজ লড়ে। অনেক সময় ব্রিজে জ্যাম লাগে, তখন ঘণ্টা ধরে থাকতে হয়। দিনের বেলা গ্রাম পুলিশ থাকে, কিন্তু রাত আটটার পরে তাদের ডিউটি থাকে না। তখন ব্রিজে অনেক বিশৃঙ্খলা ঘটে।’

এক যাতায়তকারী তাপস রায় বলেন, ‘আমরা যে ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করি তা আগে থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। পাশে কিন্তু একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটি পদ্মা সেতুর আগেই নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটির কাজ শেষ হয়নি। তাই আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরাতন সেতু দিয়ে যাতায়াত করি। কিন্তু এটি আমাদের কাম্য নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেন দ্রুত নতুন সেতুটি চালু করে দেন।’

রুপম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘নতুন ব্রিজটি হয়েছে কিন্তু এটি এখনও সচল হয়নি। আমরা তাই রিস্ক নিয়ে পুরাতন সেতু দিয়ে যাতায়াত করি। বড় গাড়িগুলো যখন পাশ দিয়ে সাইড হয়, তখন পাশে আর জায়গা থাকে না। আমাদের গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। মনে হয় গাড়িগুলো আমাদের গাড়ির উপর দিয়ে উঠে যাবে। তাই আমি মনে করি দ্রুত নতুন সেতুটি চালুর খুবই প্রয়োজন। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন জানান, মূল সেতুর স্ট্রাকচারের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল, সেগুলো সমাধান হয়ে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। আমরা ঠিকাদারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলেছি। আশা করছি ঈদের আগে নতুন সেতু দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00