প্রচ্ছদ সারাবাংলা ফেনীর ২০টি গ্রাম রাতারাতি পানিতে তলিয়ে গেল

ফেনীর ২০টি গ্রাম রাতারাতি পানিতে তলিয়ে গেল

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 3 মিনিট পড়ুন
ফেনীর ২০টি গ্রাম রাতারাতি পানিতে তলিয়ে গেল

ফেনী জেলায় ভারী বর্ষণ এবং ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২০টি স্থানে ভেঙে গেছে, যার ফলে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। যদিও উজানের গ্রামগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে, তবে বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে নতুন করে ফুলগাজীর মুন্সির হাট ও আনন্দপুর ইউনিয়নের ছাগলনাইয়া এবং ফেনী সদর উপজেলার বাঁধের ৬টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, ফলে আরও ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক মহাসড়কের যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে, এবং বুধবার রাতে ফেনী ছাগলনাইয়া সড়কও তলিয়ে গেছে।

এদিকে, মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। কোমর পানিতে তলিয়ে থাকা ফেনী শহরের পানি দ্রুত কমছে, তবে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলিগলি এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। নতুন করে পাহাড়ি ঢলের পানি শহরে ঢুকলে আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বছরের ভয়াবহ বন্যার আতঙ্কে অনেক মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন, এবং অনেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা ও খাদ্য সহায়তায় নেমে পড়েছেন।

ফেনী জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস বানভাসিদের উদ্ধার তৎপরতা, খাদ্য সহায়তা, আশ্রয় ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পরশুরামের ১২টি ও ফুলগাজী উপজেলার ৮টি সহ মোট ২০টি বাঁধ ভেঙে গেছে। এর মধ্যে মুহুরী নদীর ১০টি, কহুয়া নদীর ৬টি এবং সিলোনিয়া নদীর ৪টি অংশে ভাঙনে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বুধবার রাতে নতুন করে ফুলগাজীর আনন্দপুর, ছাগলনাইয়ার রেজুমিয়া, বেতাকা, সতের এলাকায় ৬টি স্থানে বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া গেছে। চার উপজেলায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বানভাসিরা জানান, গেল বছরের বন্যার বছর না ঘুরতেই আবারও পানিতে ডুবতে হয়েছে। সব জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এ অঞ্চলে জুলাই-আগস্ট মাসে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

বাঁধের ভাঙন স্থানে তীব্র স্রোতে পানি ঢুকছে এবং সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গেল বছরের বন্যার মতো এবারও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে ভুগতে হচ্ছে। রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও তাদের ভাগ্য কখনো পরিবর্তন হয় না।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, জেলায় টানা তিন দিন ধরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, রাত ৯টার দিকে নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে নদীর পানি কমেছে, কিন্তু ভাঙন স্থান দিয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি কমার পরেই বাঁধ মেরামতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়ন, ফুলগাজী সদরের কিসমত ঘনিয়ামোড়া, উত্তর শ্রীপুর, পূর্ব ঘনিয়ামোড়া, উত্তর নিলক্ষ্মী, পশ্চিম ঘনিয়ামোড়া, দেড়পাড়া, নিলক্ষ্মী, গোসাইপুর, মন্তলা, গাবতলা, কহুমা, জগতপুর এবং পরশুরাম উপজেলার ধনীকুন্ডা, শালধর, বেড়াবাড়িয়া সহ বেশকিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জগৎপুরের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, গত বছরের বন্যায়ও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। তারা জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল টাওয়ারগুলো সচল রাখলে মানুষ খুবই উপকৃত হতো। বিশেষ করে প্রবাসীরা বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. সোহেল আকতার জানান, এ উপজেলায় ৩৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৬০ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংযোগ দেয়া হবে। তবে বিদ্যুতের বিভিন্ন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সহসাই সংযোগ দেয়ার সম্ভাবনা নেই।

ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, পরশুরাম, ফুলগাজী ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার মানুষ দুর্যোগে পড়েছে। ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে দেড় হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। জেলার ছয় উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00