নওগাঁয় বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে, এবং এবারের মৌসুমে কৃষকরা আবহাওয়ার অনুকূলে থাকার কারণে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন। তবে, ন্যায্যমূল্য নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব থেকে ফসল রক্ষা করতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কেটে ফেলতে বলা হচ্ছে।
নওগাঁর বিস্তীর্ণ বিল এলাকা এখন সোনালি ধানের গালিচায় পরিণত হয়েছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রোপণ করা এসব ধান এখন কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। কৃষকরা ঘাম ঝরিয়ে ফসল কাটার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে, উৎপাদন খরচ এবং শ্রমিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তারা দাম নিয়ে শঙ্কিত। প্রতি বিঘায় খরচ হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলেও ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও কৃষকের লাভের ভাগ কম।
কৃষকরা অভিযোগ করছেন যে, তারা যে ধান হাজার টাকা মন বিক্রি করেন, সেটি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে ১৩০০-১৪০০ টাকায় বিক্রি করেন। ফলে কৃষকের হাতে আসছে কম দাম। এদিকে, কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল নষ্ট না হওয়ার জন্য কৃষকদের ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে কেটে ফেলতে বলা হচ্ছে।
এছাড়া, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য নওগাঁয় এ বছর ৯০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন কাজ করবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে, যেখানে ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।