রাজধানী ঢাকা, যেখানে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা চলমান, সেখানে ফুটপাতের পাশাপাশি প্রধান সড়কগুলোও অস্থায়ী বাজারের দখলে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে ভয়াবহ যানজট, যা অফিস যাতায়াতে কর্মজীবীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত কয়েক মাসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কগুলোতে ভাসমান বাজার গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা এবং যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার থামিয়ে মাঝ রাস্তায় বাজার করছেন। এতে ২০-৩০ সেকেন্ডের পথ পাড়ি দিতে ১০-১৫ মিনিট সময় লাগছে।
এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের কারোরই ভ্রুক্ষেপ নেই। গন্তব্যে পৌঁছাতে বের হওয়া ব্যক্তিদের জন্য এটি যেন এক যুদ্ধের মতো। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে ভাসমান ব্যবসায়ীদের দখল বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আইন প্রয়োগ করতে গেলে প্রশাসনের সঙ্গে দোকানিদের মাঝে চলে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলা। লোকবল সংকটের কারণে তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না।
ডিএমপির গণমাধ্যম বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “শুধু পুলিশ নয়, সবারই ভূমিকা রয়েছে। ধরুন, কাউকে উচ্ছেদ করলাম, কিন্তু পরে সে আবার এসে দখল করলো। এটা তো কাম্য না। আমরা চাই, সবাই যার যার অবস্থান থেকে আইন মেনে চলুক।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী জানান, “রাস্তায় লোকবল বসিয়ে রাখার মতো সিটি করপোরেশনে ওইরকম সেটআপ নেই। সেখানে আমরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট আরও অনেককেই কাজ করতে হবে।”
রাজধানীতে অস্থায়ী বাজার গড়ে ওঠার কারণে যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্টের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। নগরবাসী সড়ক ও ফুটপাতে চলাচলে ভোগান্তির অবসান চান।