শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা সিংগাবড়ুনা ইউনিয়নের চুকচুকি গ্রাম যেন এক অবহেলিত ও বঞ্চিত জনপদ। বিগত ৫৪ বছরেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে নেই একটি পাকা রাস্তা। গ্রামের কাছে একমাত্র কাঁচা রাস্তা দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙা এবং খানাখন্দে পূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই এটি হয়ে পড়ে কাদা এবং জলাবদ্ধতার এক দুর্বিষহ পথমালা। মাঝখানে একটি কালভাট থাকলেও সেটি ভেঙে যাওয়ায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন গ্রামের মানুষকে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ মিয়া হতাশা নিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রতি দিন স্কুলে আসতে গিয়েই ভোগান্তির শিকার হয়। বর্ষাকালে কাদা-পানিতে ডুবে তাদের জন্য পথচলা অনেকটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে যায়। এতে শিক্ষার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।” শিক্ষার্থী ইসিমা বেগম লজ্জিত কণ্ঠে জানায়, “আমরা অনেক সময় ভিজে বা কাদায় পড়ে স্কুলে পৌঁছাই। এতে আমাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও কমে যায়।”
কৃষক মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমি কষ্ট করে ফসল ফলাই, কিন্তু বাজারে নিয়ে যেতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ মোকাবেলা করতে হয়। সময়মতো পণ্য তুলতে না পারার কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়, আমাদের লোকসান গুনতে হয়।” স্থানীয় বাসিন্দা রোজাইন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যেন সরকারের নজরে পড়ি না। রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক, কিংবা দিনমজুর—সবার জীবন কষ্টের মধ্যে কাটছে এই ভাঙা রাস্তার জন্য। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয় অসুস্থ রোগীদের। ভাঙা সড়ক ধরে কোনো গাড়ি ঢুকতে না পারায় রোগীদের কাঁধে কাঁধে করে কয়েক কিমি দূরের সড়কে নিয়ে যেতে হয়, যা প্রাণসংকট তৈরি করতে পারে।
গ্রামের প্রবীণ মোমেন আলী বেদনার সুরে বলেন, “রাস্তার অভাবে আমাদের প্রতিদিন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও একটি পাকা রাস্তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তারা বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের দুর্দশার কথা জানালেও, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিই পেয়েছেন। বাস্তব কোনো পদক্ষেপ এখনও দেখা যায়নি। এর ফলে আজও তারা দুর্ভোগের অদূরদর্শী পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে আছেন।
চুকচুকি গ্রামের মানুষ এখন আর কোনও প্রতিশ্রুতি নয়, আসল উন্নয়নের দাবি করছেন। তাদের দাবি, অন্তত একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হোক, যাতে শিশুরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারে, কৃষকরা তাদের ফসল সময়মতো বাজারে আনতে পারে এবং অসুস্থ রোগীরা যথাসময়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। একটি সড়কের উন্নয়নই শুধু তাদের চলাচলের ভোগান্তি লাঘব করবে না, বরং শিক্ষা, কৃষি ও জীবনমানের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। গ্রামের মানুষের একটাই আকাঙ্ক্ষা—তাদের দুঃখ-দুর্দশার শেষ হোক এবং তারা যেন উন্নয়নের আলো দেখতে পারেন।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাবের আহম্মেদ জানান, “সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে, তাই আশা করছি অতি শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে।