ময়মনসিংহ হাইটেক পার্কের নির্মাণকাজ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই পালিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, এবং কাজ বন্ধ থাকায় ১৫৩ কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইটি খাতে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময় যেখানে প্রায় আড়াইশো শ্রমিকের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছিল, সেখানে এখন নীরবতা বিরাজ করছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণ সামগ্রী পড়ে রয়েছে।
নির্ধারিত সময় শেষে এক বছর সময় বাড়িয়েও ময়মনসিংহ হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এলঅ্যান্ডটি’ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভয়েন্টস সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড লাপাত্তা হয়ে যাওয়ায় নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ২০২০ সালে ময়মনসিংহ নগরের কিসমত এলাকায় ৬ দশমিক ১ একর জমির ওপর হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সাত তলা বিশিষ্ট এই ভবনের প্রতি তলায় ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা। পার্কটি চালু হলে প্রতিবছর অন্তত এক হাজার তরুণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও তিন হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল আলম মন্তব্য করেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাইটেক পার্কের কাজও বন্ধ রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত পার্কটি বাস্তবায়িত হোক। এটি চালু হলে আমাদের এলাকার চিত্র বদলে যাবে। আমাদের এলাকার ছেলে-মেয়েরা এই প্রতিষ্ঠান থেকে উপকৃত হবেন।’
অন্যদিকে, আবু সাঈদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পার্কটি চালু হলে বিভিন্ন কোর্স করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’
বিশেষজ্ঞরা আবারও জোর দিয়ে বলছেন, আইটি খাতে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বন্ধ থাকা এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মো. সাহিদুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। প্রয়োজনে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে হলেও কাজটি শেষ করা দরকার।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান প্রকল্পটিতে রয়েছেন। তিনি জানান, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ভারতে চলে যাওয়ায় পুরো প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে শ্রমিক সংকটে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে কাজ চালুর চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির ৫৫ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। আমরা এক বছর সময় পেলে কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করতে পারব।’
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. মুফিদুল আলম বলেন, ‘প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি আমরা। আশা করি শিগগিরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ দেখতে পাব।