প্রচ্ছদ সারাবাংলা গ্রাম আদালতে শত শত অভিযোগের সমাধান হচ্ছে ১০ টাকায়

গ্রাম আদালতে শত শত অভিযোগের সমাধান হচ্ছে ১০ টাকায়

দ্বারা নিজস্ব প্রতিনিধি
০ কমেন্ট 2 মিনিট পড়ুন
গ্রাম আদালতে শত শত অভিযোগের সমাধান হচ্ছে ১০ টাকায়

মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে গত এক বছরে ৫৪৩টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৩০ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা খরচ করে সুবিচার পাওয়ায় তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হিসেবে, পানহাটা গ্রামের নারী উদ্যোক্তা মাহমুদা আক্তার পাশের জোড়ারদেউল গ্রামের মিন্টু হালদারের বিরুদ্ধে হাতাহাতি ও হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শুনানিতে, বিচারক প্যানেল মিন্টু হালদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিরোধ নিষ্পত্তি করে। উভয়পক্ষই এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘গ্রাম আদালতে এসে মাত্র ১০ টাকা খরচ করে আবেদন করেছি। আজ আমাদের ডাকা হয়েছে, আমি সুবিচার পেয়েছি এবং ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি।’ অপরদিকে, মিন্টু হালদার মন্তব্য করেন, ‘এখানকার বিচার সঠিক ছিল। আমাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে আমাদের দুইপক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়েছে। কোর্ট-কাচারির তুলনায় গ্রাম আদালত অনেক সহজ ব্যবস্থা।

মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয় উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন পরিষদে এজলাস রয়েছে, যেখানে অস্থায়ী এজলাসে বিচার কার্যক্রম চলছে। গত বছর গ্রাম আদালতে সরাসরি ৬৪১টি এবং জুডিশিয়ারি থেকে ২১২টি অভিযোগ জমা পড়ে। আইনজীবী ছাড়াই, দুই পক্ষের পছন্দের দুইজন বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্যানেল চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে বিচারক প্যানেল দ্রুত মামলাগুলি নিষ্পত্তি করে।

গ্রাম আদালতের অধীনে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেয়া সম্ভব। রামপাল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলী আজগর ব্যাপারি বলেন, ‘কোর্টে ছোটখাটো যে মামলা হয়, সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়। আমরা সঠিকভাবে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করি। এতে জনগণ সন্তুষ্ট।’

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. সালাউদ্দিন জানান, ‘গ্রাম আদালতে পাঁচজন বিচারক থাকেন। আবেদনকারী দুইজন বিচারক মনোনীত করেন, একজন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য এবং একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি থাকেন। ২০২৪ সালের সংশোধিত আইনে তিন লাখ টাকা মূল্যমানের বিরোধ সমাধানের ক্ষমতা গ্রাম আদালত পেয়েছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৌসুমী মাহবুব বলেন, ‘গত তিন মাসে ১৩৩টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১২৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা অনেক সময় সক্রিয়ভাবে অফিস করতে না পারায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

২০২৪ সালে মুন্সীগঞ্জের গ্রাম আদালতের বিচারের মাধ্যমে ৩০ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে বাদীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

গ্রাম আদালতে বিচারযোগ্য ফৌজদারি মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বেচ্ছায় আঘাত করা (৩২৩), ক্ষতি সাধন (৪২৬), অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ (৪৪৭), বেআইনি সমাবেশে যোগদান (১৪৩), দাঙ্গা (১৪৭), কলহ বা মারামারি (১৬০), অন্যায়ভাবে আটক (৩৪২), মারাত্মক প্ররোচনা ব্যতীত আক্রমণ (৩৫২), অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন (৫০৬), চুরি (৩৭৯), প্রতারণা (৪১৭), এবং প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ (৪২০)।

এছাড়া দেওয়ানী মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে কোনো চুক্তি, রশিদ বা দলিল মূল্যে প্রাপ্য টাকা আদায়, অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার, এবং গবাদি পশু অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ।

ফৌজদারি মামলা ৩০ দিনের মধ্যে এবং দেওয়ানী মামলা ৬০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হয়। শুনানি কার্যক্রম শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়। অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময়সীমার পর গ্রাম আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ সহজে ও কম খরচে ন্যায়বিচার পাচ্ছে, ফলে আদালতের চাপ কমছে এবং গ্রামাঞ্চলের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে।

You may also like

মতামত দিন

ঠিকানা

marbanglasongbad logo

আমার বাংলা সংবাদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।

প্রকাশক ও সম্পাদক : হাসান মাহমুদ,
বিভাগীয় প্রধান ( অনলাইন): সাইফ উদ্দিন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজলেটার

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পেতে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00