ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলা সংঘাতে কি প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র সংগঠনটির পক্ষ নিয়েছে চীন? ইসরায়েলের একটি তদন্তে উঠে আসা বেশ কিছু তথ্য এই জল্পনা উস্কে দিয়েছে।ইসরায়েলের দাবি, তাদের তদন্তে দেখা গিয়েছে, হামাসের হাতে এমন সব অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যেগুলি চীনে তৈরি হয়েছে। সরাসরি চীন সেই অস্ত্র হামাসের হাতে তুলে দিয়েছে না কি, অস্ত্রের চোরাকারবারীদের মাধ্যমে প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র সংগঠনটির কাছে এসেছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে অস্ত্রের পরিমাণ দেখে ইসরায়েলের সমর বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি কোনও দেশের মাধ্যমেই সেগুলি প্যালেস্টাইনে ঢুকেছে। তবে অস্ত্রগুলি চীনে নির্মিত বলেই বেজিং এর নেপথ্যে রয়েছে, এখনই এমন কোনও স্থির সিদ্ধান্তে আসতে চাইছে না ইসরায়েল। এদিকে, কিউবিজেড অ্যাসল্ট রাইফেল, কিউএলজেড এইটি সেভেন গ্রেনেড লঞ্চার, এম-সিক্সটিন রাইফেলের কার্তুজ এমনকি অত্যাধুনিক দূরবীন, লিসেনিং ডিভাইস এবং সামরিক রেডিও- হামাসের ভাণ্ডারে এমন বিপুল পরিমাণ অস্ত্র চীন থেকেই এসেছে বলে দাবি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের। ইসরায়েল-চীন দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের পরও হামাসের হাতে কীভাবে এলো এসব অস্ত্র, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এ ঘটনায় বেইজিং সরাসরি জড়িত কিনা তা নিয়েও আছে ধোঁয়াশা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের হাত হয়েও গাজায় পৌঁছাতে পারে এসব অস্ত্র। কারও কারও আবার ধারণা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে চীন। সে উদ্দেশ্যেই হামাসকে অস্ত্র দিতে পারে বেইজিং।এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সবসময় নির্লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে চীনকে। এবার সে অনেকটা পাল্টেছে সে চিত্র।অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানকে আগ্রাসন হিসেবেই আখ্যা দিয়েছে বেইজিং। পাশাপাশি হামাসকে জঙ্গি সংগঠন বলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার হামাসকে অস্ত্র দেয়ার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, নিশ্চিতভাবেই তিক্ততায় রূপ নেবে চীন-ইসরায়েল সম্পর্ক। টানাপোড়েন বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও।