নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস লিকেজের ফলে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ রিকশাচালক হান্নান (৫০) মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হান্নানের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল, বিশেষ করে তার শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাকে ইনস্টিটিউটের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় হান্নানের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও দগ্ধ হয়েছেন। তার স্ত্রী লাকি আক্তার (৩৫) শরীরের ২২ শতাংশ, মেয়ে জান্নাত (৪) ৩ শতাংশ, সামিয়া (১১) ৭ শতাংশ, ছেলে সাব্বির (১২) ২৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সোহাগ (২৩), তার স্ত্রী রুপালি (২০) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী কন্যা সুমাইয়া (৪৪ শতাংশ) দগ্ধ হয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি ২ নম্বর চেয়ারম্যান অফিসের পাশে অবস্থিত একটি টিনশেড বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দগ্ধ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গভীর রাতে হঠাৎ করে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে টিনশেড ঘরে। এই ঘটনায় দুটি কক্ষে অবস্থানরত আটজনই দগ্ধ হন।
দগ্ধদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিকশাচালক হান্নান, তার পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশী সোহাগ ও তার পরিবার। দগ্ধদের সবাইকে সেদিন ভোরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল।