দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর মার্কিন কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই অধিবেশনের এক পর্যায়ে মানবিকতার নজিরবিহীন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার কংগ্রেসের ভাষণে টেক্সাসের ১৩ বছর বয়সী ডিজে ড্যানিয়েলকে সম্মানসূচক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আবেগঘন এক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। সবাই কড়তালিতে ড্যানিয়েলকে স্বাগত জানান। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের জন্য কেবল রিপাবলিকানরাই নন, প্রশংসা করেছেন ডেমোক্র্যাটরাও।
ডিজে ড্যানিয়েলের ২০১৮ সালে এক বিরল ধরণের ক্যান্সার ধরা পড়ে। তারপর থেকে, ড্যানিয়েলের মস্তিষ্কে ৬টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে এত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ড্যানিয়েল সবসময় একজন পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। অবশেষে তার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ তম প্রেসিডেন্টের হাত ধরে। ড্যানিয়েল হিউস্টন পুলিশ বিভাগের পোশাক পরে গ্যালারি থেকে ভাষণে অংশ নেন। ভাষণ দেওয়ার সময় সবার সামনে ড্যানিয়েলের বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নির্দেশের পর সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান ড্যানিয়েলকে সম্মানসূচক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করান। এখানেই শেষ নয়, ড্যানিয়েলকে সপরিবারে ওভাল অফিসেও আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প। সেখানে ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরেন ড্যানিয়েল। ড্যানিয়েলের বাবার সাথেও হাত মেলান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ভাষণের পর সামাজিক মাধ্যমে ড্যানিয়েলের পুরোনো একটি ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরার কারণে একদল ব্যক্তি তাকে হয়রানি ও উপহাস করছে। যা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেটিজেনরা।
২০১৮ সালে মস্তিষ্কের ক্যান্সার নির্ণয়ের পর ডাক্তাররা ড্যানিয়েলকে মাত্র পাঁচ মাস বেঁচে থাকার সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও বেঁচে যান ড্যানিয়েল। তবে এজন্য তাকে বার বার অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এত কষ্ট সহ্যের পর অবশেষে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ড্যানিয়েল। হয়ে উঠলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য।